বেঙ্গালুরু: স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার বেঙ্গালুরু কেন্দ্রে কর্মরত এক রাঁধুনির করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য। উল্লেখ্য, সাই বেঙ্গালুরুতেই অনুশীলনের জন্য ক্রীড়ামন্ত্রকের অনুমতি প্রদানের অপেক্ষায় রয়েছে অলিম্পিকে যোগ্যতা অর্জনকারী দেশের পুরুষ ও মহিলা হকি দল। স্বাভাবিকভাবেই সাইয়ের বেঙ্গালুরু কেন্দ্রে কর্মরত ওই রাঁধুনির মৃত্যুতে উৎকন্ঠায় দেশের দুই হকি দল। যদিও মৃত ব্যক্তির সংস্পর্শে না আসায় হকি প্লেয়ারদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই হকি ইন্ডিয়ার।

হকি ইন্ডিয়ার সিইও এলিনা নরম্যান এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, ‘হকি দলকে বেঙ্গালুরু থেকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কোনও প্রশ্নই এখন ওঠে না। কারণ দেশের মধ্যে সবচেয়ে ভালো ব্যবস্থাপনা এবং পরিষেবা বেঙ্গালুরু সেন্টারেই বরাদ্দ রয়েছে।’ তাছাড়া দেশজুড়ে লকডাউনের মধ্যে এখন প্লেয়ারদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়াটা কার্যত অসম্ভব বলে মনে করেছেন তিনি। সাই বেঙ্গালুরুর এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, খেলোয়াড়দের অ্যাকোমোডেশন জোনে ওই ব্যক্তির সংস্পর্শ কোনওভাবেই সম্ভব নয় তাই অযথা প্যানিকের কোনও প্রয়োজন নেই।

সাই বেঙ্গালুরু ক্যাম্পাস তিনটি ভাগে বিভক্ত- গেট এরিয়া, সেক্টর ‘এ’ এবং সেক্টর ‘বি’। খেলোয়াড়রা মূলত থাকেন ক্যাম্পাসের সেক্টর ‘বি’ অঞ্চলে। গত ১৫ মার্চের পর থেকে ওই রাঁধুনি গেট এরিয়া পেরোননি বলে জানিয়েছেন সাই’য়ের এক আধিকারিক। তাছাড়া বয়সজনিত কারণে গত মার্চ থেকে সাই কর্তৃপক্ষের তরফে কাজে আসার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছিল। সম্প্রতি হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয় ওই রাঁধুনির। মৃত্যুর পর প্রোটোকল অনুযায়ী তাঁর শারীরীক পরীক্ষা হয়, যেখানে তাঁকে করোনা পজিটিভ চিহ্নিত করা হয়।

গত শুক্রবার ক্যাম্পাসে একটি বৈঠকে ওই রাঁধুনি উপস্থিত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে খবর ছড়ায়। কিন্তু সাই’য়ের পক্ষ থেকে সেই অভিযোগ খারিজ করে সাফ জানানো হয় যে, গত ৬৫ দিন মৃত ওই রাঁধুনি ক্যাম্পাস মুখো হননি। কারণ হিসেবে জানানো হয় দেশজুড়ে লকডাউনের আগেই বেঙ্গালুরু ক্যাম্পাসে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। গত ১৫ আর্চ শেষবারের মতো ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছিলেন ওই রাঁধুনি। তাও কোনওভাবেই গেট এরিয়া পেরোননি তিনি। সতর্কতা অবলম্বন করে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তারক্ষী সহ কয়েকজনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে সাই কর্তৃপক্ষ।