ঢাকা: বেশি চওড়া নয় সীমান্তের ইছামতি নদীর লবঙ্গবতী খাল। সেটা পেরিয়ে গেলেই ভারতে ঢুকে পড়া যায়। ওপারে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা। গোপনে সেখানেই চলে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশের করোনা টেস্ট জালিয়াতির নায়ক মহম্মদ সাহেদের। তার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন ও করোনা টেস্টের ভুয়ো রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ঢাকার রিজেন্ট হাসপাতালের কর্ণধার সাহেদের বেশ কয়েকজন সাগরেদ ধৃত। বাকিদের খোঁজ চালাচ্ছে র‌্যাবের ( র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন) গোয়েন্দা বিভাগ। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও র‌্যাব জানিয়েছে, বোরখায় মুখ ঢেকে ইছামতি পার করে সীমান্তের ওপারে পশ্চিমবঙ্গে ঢোকার ঠিক আগেই সাহেদ ধরা পড়ে। নৌকায় সে লুকিয়েছিল। সাহেদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

জানা গিয়েছে, সাহেদের পৈত্রিক ভিটে ছিল পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলায়। ১৯৪৭ সালে তার পরিবার বসিরহাট থেকে খুলনার সাতক্ষীরায় চলে আসে। সাতক্ষীরাতেই জন্ম সাহেদের। নব্বই দশকে লেখাপড়া ছেড়ে বেআইনি কার্যকলাপে অংশ নিতে শুরু করে সাহেদ।

পরে ঢাকায় এসে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সঙ্গে পরিচয় সূত্রে রিজেন্ট হাসপাতাল তৈরি করে। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করলে সাহেদ স্থির করে জাল করোনা সার্টিফিকেট দেবে। সেই মতো করোনা টেস্টের জন্য অনুমোদন জোগাড় করে। এরপর রিজেন্ট হাসপাতাল কর্তৃক করোনা টেস্ট শুরু হয়। সবটাই ছিল লোক দেখানো।

সাহেদের নির্দেশে ঢাকার রিজেন্ট হাসপাতাল ভুয়ো করোনা টেস্ট সার্টিফিকেট বিক্রি করছিল। কম করে ১৬ হাজার জনের জাল রিপোর্ট তৈরি করেছিল সাহেদ ও তার সাগরেদরা। এতে যেমন সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে, তেমনি করোনা সংক্রমণ

আরও ছড়ানোর প্রবল ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একইভাবে জেকেজি গ্রুপ নামে আরও একটি সংস্থা হাজার হাজার মানুষের জাল করোনা টেস্ট রিপোর্ট তৈরি করে। এই সংস্থার দুই প্রধান কর্ণধার আরিফ ও তার চতুর্থ স্ত্রী ডা. সাবরিনাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এবার ভারতে পালানোর আগে রিজেন্ট হাসপাতালের মাথা মহম্মদ সাহেদ ধরা পড়ল। ভারতে তার সঙ্গে কার যোগাযোগ আছে তা খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা বিভাগ।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ