পাটনা: করোনার থাবা ক্রমশ চওড়া হচ্ছে বিহারে। আক্রান্তের সংখ্যা আচমকাই বাড়ল পরিযায়ী শ্রমিকরা বাড়ি ফেরার পর। রবিবার বিহারের স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ৫৫০ জন পরিযায়ী শ্রমিক নিজেদের বাড়ি ফিরেছিলেন। এরা প্রত্যেকেই করোনা আক্রান্ত বলে খবর।

নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন যে সব শ্রমিক তার মধ্যে ১২৩ জন মহারাষ্ট্র থেকে, ১৭২ জন দিল্লি থেকে ও ২৬ জন পশ্চিমবঙ্গ থেকে ফিরেছেন। স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে মোট ১০, ৩৮৫জন পরিযায়ী শ্রমিক এখনও পর্যন্ত বিহারে ফিরেছেন। তাদের প্রত্যেকেই কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

দফতর সূত্রে খবর, এই শ্রমিকরা রাজ্যে ফেরার পরেই তাঁদের পরীক্ষা করা হয়। প্রয়োজন অনুসারে কোয়ারেন্টাইনেও পাঠানো হয়। এখনও পর্যন্ত ২,৭৪৬টি পরীক্ষা বাকি রয়েছে।

তবে করোনা মোকাবিলা করতে বিহার সরকার ব্যর্থ বলে দাবি করেছে বিরোধী কংগ্রেস ও আরজেডি। তাঁদের দাবি যাঁরা বাড়ি ফিরছেন, তাঁদের জন্য যথেষ্ট ব্যবস্থা করা হয়নি সরকারের পক্ষে।

পরিসংখ্যান বলছে পরিয়ায়ী শ্রমিকরা বিহারে ফিরতেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮ শতাংশ। তেসরা মে থেকে ১৫ই মে পর্যন্ত বিহারে ৫০১টি নতুন করে করোনা আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে। এর মধ্যে ৩৯১জনই পরিযায়ী শ্রমিক বলে খবর।

বিহারের স্বাস্থ্যসচিব লোকেশ কুমার সিং শুক্রবার জানান, গত ১২ দিনে রাজ্যে ৩৯১ জনের করোনা পজেটিভ ধরা পড়েছে। এর মধ্যে ১২২জনই দিল্লি থেকে ফিরেছেন।

বাকিদের মধ্যে ১০৫জন পরিযায়ী শ্রমিক গুজরাত থেকে ফিরেছেন ও বাকি ৭৭জন ফিরেছেন মহারাষ্ট্র থেকে। এঁদের প্রত্যেকের করোনা পজেটিভ। বিহার সরকার জানাচ্ছে রাজ্য ভিত্তিক টেস্ট চলছে। অর্থাৎ কোন রাজ্য থেকে পজেটিভ কেস বেশি আসছে তা জানার জন্য এই পরীক্ষা। অন্যান্য রাজ্য থেকে যারা আসছেন, তাঁদেরও সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

এরই মধ্যে ২৭ বছর বয়েসী বিহারের এক আইএএস অফিসারও করোনা আক্রান্ত বলে খবর। তথ্য ও জন সংযোগ দফতরের সচিব অনুপম কুমার জানান ওই অফিসার পরিযায়ী শ্রমিকদের কোয়ারেন্টাইন ক্যাম্পের দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন। সেই ক্যাম্প পরিদর্শনও করেন।

এখনও পর্যন্ত বিহারের ছটি ল্যাবে করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে চারটি পাটনাতে, বাকি দুটি মুজফফরপুর ও ভাগলপুরে। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার করোনা টেস্টের সংখ্যা দিনপ্রতি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিদিন অন্তত ১০ হাজার নমুনা যাতে পরীক্ষা করা হয়, তার ব্যবস্থা করতে বলেছেন নীতিশ। আপাতত দিনে ১৯০০-২০০০টি পরীক্ষা করা হচ্ছে।

গড়ে ৪৪.১০ শতাংশ পরিযায়ী শ্রমিক আক্রান্ত হচ্ছেন বলে বিহার সরকার জানাচ্ছে। বিহারে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১০১৮। তার মধ্যে ৪৪ শতাংশই পরিযায়ী শ্রমিক। আরও শ্রমিক বাড়ি ফিরছেন। ফলে আক্রান্তের সংখ্যা আরওএ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।