ব্রাসিলিয়া: করোনা ভাইরাস ছেয়ে গিয়েছে সারা বিশ্বে। তবে ‘বিশ্বের ফুসফুস’ আক্রান্ত হলে সেই ফলাফল কতদূর গড়াবে, সেই হিসেব হয়ত করা হয়নি। তবে এই ঘটনা সত্যি যে ব্রাজিলে আমাজনে করোনা ভাইরাসের ঘটনা ধরা পড়েছে। আক্রান্ত আমাজনের আদিবাসী দল ইয়ানোমামির একজন।

ব্রাজিলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী লুই হেনরিক ম্যানডেট্টা জানিয়েছেন, “আজ ইয়ানোমামির একজনের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে, যা চিন্তা বাড়াচ্ছে”।

দুশ্চিন্তা প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, “আমাদের আদিবাসীদের নিয়ে আরও সতর্ক হতে হবে, বিশেষ করে তাঁদের নিয়ে যারা বহির্বিশ্ব থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন”।

ইয়ানোমামির আক্রান্তের বয়স মাত্র ১৫, সে এখন বোয়া ভিস্তার একটি হাসপাতালের আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন। উত্তর ব্রাজিলের রাজ্য রোরাইমার রাজধানী বোয়া ভিস্তা।

গ্লোবো নামের একটি সংবাদপত্র জানিয়েছে, ব্রাজিলের তরফে আদিবাসীদের মধ্যে কমপক্ষে সাতজন আক্রান্ত হওয়ার খবর সামনে এসেছে। প্রথমজন কোকামা দলের ২০ বছরের একজন মহিলা। সপ্তাহখানেক আগে সংক্রমণের খবর প্রকাশ্যে এসেছে।

ব্রাজিলে প্রায় ৮ লাখ আদিবাসীদের বসবাস, সেখানে কমপক্ষে ৩০০ আলাদা আলাদা আদিবাসী দল আছে। ইয়ানোমামিরা সংখ্যায় প্রায় ২৭ হাজার যারা ‘ফেস পেইন্ট’ এবং ‘পিয়ারসিং’ এর জন্যই পরিচিত।

কুড়ির শতকের মাঝমাঝি অবধি ইয়ানোমামিরা বহির্বিশ্ব থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ছিল যে কারণে ১৯৭০ সালে ম্যালেরিয়া এবং মিসিলসের মতন মারণব্যাধি তাঁদের বিধ্বস্ত করেছিল।

আমাজনের রেন ফরেস্টে আদিবাসীরা বিশেষভাবে বাইরে থেকে আসা রোগগুলিতে আক্রান্ত হয়েছে। কারণ তাঁরা ঐতিহাসিকভাবে জীবাণু থেকে এতটাই দূরে যা নিয়ে পৃথিবী রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে ফেলেছে।

এর আগে ব্রাজিলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণকের তরফে জানানো হয়েছিল, অ্যামাজনের গভীরে বসবাসকারী কোকামা উপজাতির ২০ বছরের একটি তরুণী করোনা পজিটিভ হয়েছে। ব্রাজিল-কলম্বিয়া সীমান্তের কাছাকাছি স্যান্টো আন্তোনিও দো ইকা জেলায় একটি আদিবাসী গ্রাম রয়েছে। তরুণী ওই গ্রামেরই বাসিন্দা। ওই গ্রামে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ বাস করে বলে জানা গিয়েছে।

উদ্বেগের এখানেই শেষ নয়। ওই গ্রামের আরও চারজনের দেহে করোনার উপস্থিতি মিলেছে। তারা অবশ্য উপজাতির সদস্য নন। আক্রান্তদের মধ্যে একজন ডাক্তার রয়েছেন। মনে করা হচ্ছে, ওই গ্রামে মানুষের সেবা করতে যাওয়া ওই ডাক্তারের শরীর থেকেই আক্রান্ত হয়েছেন গ্রামের চারজন। ওই উপজাতির মধ্যে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে বড়সড় বিপদের আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছে ব্রাজিলের প্রশাসন।