নয়াদিল্লি: করোনার থাবা শুধু বড় শহর বা লাগোয়া এলাকাতেই সীমাবদ্ধ নেই। তা ছড়াতে শুরু করেছে শহরাঞ্চল ও ছোট শহরগুলিতেও। মেট্রো শহরগুলিই এতদিন দেশের করোনা হটস্পট ছিল। প্রথম কয়েক মাসে দিল্লি ও মুম্বইয়ে সর্বাধিক আক্রান্তের সংখ্যা ছিল। কিন্তু এবার তা ছড়াচ্ছে অপেক্ষাকৃত ছোট শহরগুলিতে। যে ভয়ের কারণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দক্ষিণের ছোট শহরগুলি বিশেষ করে কর্ণাটক ও তামিলনাড়ুতে এই প্রবণতা দেখা গিয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহ ও মাসে এই ছোট শহরগুলিতে আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে সমস্যা অন্য জায়গায়। আর তা হল স্বাস্থ্য ব্যাবস্থার পরিকাঠামো। মেট্রো শহরগুলি কোনওভাবেই উন্নত পরিকাঠামোর মধ্যে দিয়ে করোনা মোকাবিলা করেছে। কিন্তু অপেক্ষাকৃত ছোট শহরগুলিতে সেই অর্থে কোনও করোনা হাসপাতাল নেই।

সেক্ষেত্রে এই এলাকাগুলিকে নিকটবর্তী বড় শহরের ওপর নির্ভর করতে হবে। নিজেদের এলাকার রোগি সামলে, দূর থেকে আসা রোগীদের কীভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব হবে, তা নিয়েই আপাতত সমস্যা তৈরি হতে চলেছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

উত্তরপ্রদেশে ৪৩,৬৫৪ জন করোনা আক্রান্তের মধ্যে ২৫ শতাংশের বেশি রোগি ছড়িয়ে রয়েছে তিনটি জেলায়, লখনউ, কানপুর ও বারাণসী। বিহারে ২৪ হাজার অ্যাক্টিভ কেসের মধ্যে পাটনার মাত্র ১৬ শতাংশ রোগি। বাকি রাজ্যের অন্যান্য জেলায় ওডিশার গঞ্জাম ও খুরদায় রয়েছে ৪২ শতাংশ রোগি। অন্ধ্রপ্রদেশে অ্যাক্টিভ রোগির সংখ্যা ৮২,১৬৬। এর মধ্যে পূর্ব গোদাবরী, কুর্ণুল ও বিশাখাপত্তনমে ছড়িয়ে ৪০ শতাংশেরও ওপরে রোগি।

একই পরিস্থিতি মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু ও দিল্লিতে। এইসব জায়গায় স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলছে পরিসংখ্যান। হিসেব বলছে প্রতি ১১হাজার মানুষের জন্য মাত্র একজন করে চিকিৎসক রয়েছে এখানে। যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে ১১ জন চিকিৎসক হওয়ার কথা।

বিহারে প্রতি ২৮,৩৯১ জন মানুষ পিছু একজন চিকিৎসক রয়েছেন। উত্তরপ্রদেশে ১৯ হাজার মানুষ পিছু চিকিৎসক রয়েছেন একজন। দিল্লির পরিস্থিতি সবথেকে ভালো। সেখানে ২,২০৩ জন পিছু একজন করে চিকিৎসক।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা আক্রান্ত হলেন ৬২ হাজারেরও বেশি মানুষ। একইসঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনার বলি ৮৮৬ জন। কদিনের নিরিখে আবারও সর্বোচ্চ সংক্রমণ গোটা দেশে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত হলেন ৬২ হাজার ৫৩৮ জন।

দেশে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেল ২০ লক্ষের গণ্ডি। শুক্রবার সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দেশে নোভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ২০ লক্ষ ২৭ হাজার ৭৫। করোনায় দেশে মোট মৃত্যু বেড়ে ৪১ হাজার ৫৮৫।

স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এই মুহূর্তে ৬ লক্ষ ৭ হাজার ৩৮৪টি অ্যাক্টিভ করোনা কেস রয়েছে গোটা দেশে। অধিকাংশ আক্রান্তই সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এখনও পর্যন্ত করোনামুক্ত হয়েছেন ১৩ লক্ষ ৭৮ হাজার ১০৬ জন।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও