ওয়াশিংটন:  মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস। এক দেশ থেকে অন্য দেশে ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে ভয়ঙ্কর ভাবে। করোনা ভাইরাসের আক্রান্ত হয়ে এখনও পর্যন্ত গোটা বিশ্বে মৃত্যু হয়েছে ২৫ হাজারেও বেশি মানুষের। আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক লক্ষ। যত দিন এগোচ্ছে তত পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। চিনের উহান থেকে জন্ম নেওয়া এই ভাইরাস এখন পৃথিবীর সর্বত্রই হানা দিয়েছে। গবেষকরা বলছেন, এই ভাইরাসের কোন শেষ নেই। দিনে দিনে পরিস্থিতি আরও মারাত্মক দিকে যাচ্ছে।

ইতালি, ইরান, স্পেন সহ ইউরোপের একাধিক দেশে করোনায় কার্যত বিধ্বস্ত জনজীবন। সর্বত্রই গৃহবন্দি থাকার নির্দেশ দিচ্ছে প্রশাসন। মহামারী আখ্যা দিয়ে করোনা মোকাবিলায় নেমেছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। হু-র তরফে প্রচার করা হচ্ছে স্বাস্থ্য সতর্কতা। বিশ্বব্যাঙ্কও আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছে। করোনা আতঙ্কে সাধারণ মানুষ ভীত-সন্ত্রস্ত। আর এরই মধ্যে ‘জিওপলিটিক্স অ্যান্ড এমপায়ার’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন অধ্যাপক ফ্রান্সিস বয়েলের বিস্ফোরক দাবি করেছেন।

তাঁর দাবি ‘করোনা আসলে চিন নির্মিত একটি জৈব অস্ত্র এবং যা তৈরি হয়েছে বায়োসেফটি লেভেল ফোর ল্যাবরেটরিতে।’ তাঁর আরও দাবি, চিনের এই জৈব অস্ত্র নির্মাণের খবর অজানা নয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থারও। হু জানত, চিনে এমন ‘বায়োলজিক্যাল ওয়েপন’ তৈরি করছে যা গোটা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিতে পারে, এমনই বিস্ফোরক দাবি ফ্রান্সিস বয়েলের।

একের পর এক বিখ্যাত বই লিখেছেন মার্কিন অধ্যাপক ফ্রান্সিস বয়েল। ‘বায়োওয়ারফেয়ার অ্যান্ড টেররিজম’ (২০০৫), ‘দ্য তামিল জেনোসাইড বাই শ্রীলঙ্কা’ (২০০৯), ‘ডেস্ট্রয়িং লিবিয়া অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড অর্ডার’ (২০১৩) সহ আরও একাধিক বিখ্যাত বই রয়েছে তাঁর। সেই তাঁর এহেন বিস্ফোরক মন্তব্যে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ওই সাক্ষাৎকারে আরও দাবি করেন যে, চিন এই মারাত্মক এবং আক্রামণাত্মক জৈব অস্ত্র দুটি ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্যই তৈরি করেছে। আর সেকারণেই করোনাভাইরাসের বিষয়টি যথাসম্ভব ধামাচাপা দেওয়ারও চেষ্টা করছে চিন। সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণ ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে কমিউনিস্ট দেশের তরফে।

এখানেই শেষ নয়। সামুদ্রিক খাবারের বাজার থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়েছে বলে যে খবর গোটা বিশ্বে সম্প্রচারিত হয়েছে, তাও নস্যাৎ করে দিয়েছেন তিনি। কোনও বাজার তো নয়ই, এমনকি কোনও পশুপাখির থেকেও এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার যে খবর প্রকাশ করা হচ্ছে সব জায়গা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ প্রকাশ করেছেন এই লেখক। একই অভিমত লেখক জে আর নিকোয়েস্টও।

‘অরিজিনস অব দ্য ফোর্থ ওয়ার্ল্ড ওয়ার’, ‘দ্য ফুল অ্যান্ড হিজ এনিমি’, ‘দ্য নিউ ট্যাকটিস অব গ্লোবাল ওয়ার’-এর বই লিখেছেন নিকোয়েস্ট। বিশ্বে জনপ্রিয় তাঁর বইগুলি। তিনি আরও চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, কানাডা থেকে করোনা ভাইরাস চুরি করে চিন এটাকে মারণাস্ত্রে পরিণত করেছে! এই প্রসঙ্গে তাঁর একটি লেখায় তিনি চিনা কমিউনিস্ট পার্টির ক্যাডারদের কথোপকথনের কথাও উল্লেখ করেছেন। ডঃ বয়েলেরও দাবি ছিল, কানাডায় উইনিপেগের যে ল্যাবে করোনা নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছিল, সেখানে ছিলেন চিনা এজেন্টরা। তাঁরাই ওই ল্যাব থেকে এই ভাইরাস পাচার করে।