লাদাখ : করোনা নিয়ে ব্যতিব্যস্ত গোটা দেশ। সেই সুযোগ নিয়েই লাদাখে নিজের অবস্থান শক্ত করল চিনের সেনা। সেনা সূত্রে খবর প্রতি বছর লাদাখের যে অংশে সামার এক্সারসাইজ হয় সেনার, সেখানে এবছর করোনার জেরে তা হয়নি। এই সুযোগ নিয়ে ওই এলাকার দখল নিয়েছে চিনা সেনা।

স্ট্র্যাটেজিক পজিশন হিসেবে ভারতের থেকে অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক অবস্থানে আছে তারা, বলছে সূত্র। মার্চ মাসে প্রতি বছর ইন্দো টিবেটান বর্ডার পুলিশ ও সেনার যৌথ মহড়া হয়। লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের ধার ঘেঁষে মহড়ায় শান দেয় সেনা। এবছর করোনায় আক্রান্ত হন সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকজন আধিকারিক। ফলে মহড়া হয়নি। সেই সুযোগে লাদাখে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে ঘাঁটির সংখ্যা বাড়িয়ে নিয়েছে চিন।

সরকারি সূত্রে খবর মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে এক জওয়ান করোনা আক্রান্ত হন। এতে কড়া নজরদারি শুরু হয়। সেনাবাহিনীর কোনও বৈঠক করা যায়নি। কোনও জমায়েত বা প্রশিক্ষণ করা যায়নি। ফলে ব্যহত হয়েছে সেনার মহড়া। ওই মার্চ মাসে অবশ্য চিন সেনাও কোনও মহড়া দিতে পারেনি করোনার জেরে। কিন্তু ফের লাদাখে মহড়া দিতে এলে ভারতের রণসজ্জা দেখে চিন্তায় পড়ে চিন। প্যাংগং লেকের পশ্চিম প্রান্ত জুড়ে রাস্তা তৈরির কাজ তখন শুরু করে দিয়েছে ভারত।

উল্লেখ্য এই লেকের পূর্ব প্রান্ত চিনের সীমান্ত হলেও, পশ্চিম প্রান্ত ভারতের অধীনে। সেখানেই রাস্তা তৈরি করেছে ভারত। তা নিয়েই আপত্তি চিনের। এই টানাপোড়েনে ক্রমশ উত্তেজনা বাড়ছে বিশ্বের সর্বোচ্চ সীমান্তের এলএসি (লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল) জুড়ে।

এর আগে তিনটি পেট্রলিং নৌকা মোতায়েন রাখত চিন। এখন সেই সংখ্যা তিন গুণ বেড়ে গিয়েছে। একই সংখ্যক পেট্রলিং নৌকা রাখা শুরু করেছে নয়াদিল্লিও। ৪৫ কিমি সীমান্ত জুড়ে চলছে টহলদারি।

সূত্র বলছে চিনের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত সমস্যার মূল সূত্রপাত প্যাংগঙ লেক ঘিরে। শুধু নৌকার সংখ্যা বাড়ানোই নয়, তাঁদের শারীরিক ভঙ্গিতেও এসেছে আক্রমণাত্মক মনোভাব। এপ্রিল মাসের শেষ থেকেই চিনের মানসিকতার এই পরিবর্তন দেখা গিয়েছে।

লাদাখ নিয়ে ভারত নিজের মুভমেন্ট শুরু করে এপ্রিলের শেষ থেকে। লকডাউনের তখন দ্বিতীয় দফা। মে মাসের ৫-৬ তারিখে ভারত ও চিনা সেনার মুখোমুখি হাতাহাতি হয়। ভারতের কিছু জওয়ান আহত হন। এরপরেই আইটিবিপি ও ভারতীয় সেনা যৌথ টহলদারি শুরু করে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই একাধিকবার মুখোমুখি হয়েছে ভারত-চিন। তবে ফিংগার ফোর অঞ্চলে বিশাল সংখ্যায় চিন সেনা শক্তি প্রদর্শন করে দুটি রাস্তা এবং লেকের রুটের ব্যবহারে ক্ষমতা কায়েম করার চেষ্টা করেছে তবে তা সফল হয়নি। তবে চিনকে কিছুটা হলেও কাবু করেছে ভারত। দেশের মাটির কোনওদিকেই চিন সেনার ঢুকতে না পারার সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। সতর্ক রয়েছে ভারতীয় সেনা।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।