ওয়াশিংটন: বুধবার মার্কিন মুলুকে মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ৪০০০। প্রকৃতপক্ষে যে সংখ্যাটা ৯/১১ এর জঙ্গি হামলার থেকেও বেশি। এমনকি আমেরিকান বিশেষজ্ঞরাও জানাচ্ছেন, করোনা মহামারির জেরে মৃতের সংখ্যা পৌঁছতে পারে ১০০,০০০ থেকে ২০০,০০০ নাগরিকের।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় করোনাভাইরাস রিসোর্স সেন্টারের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৪০০০ এরও বেশি লোক মারণ ভাইরাস করোনার বলি হয়েছেন। এছাড়াও প্রায় ১৯০,০০০ মানুষ এই ভাইরাসের কবলে পড়েছেন।

২০০১-এ আল-কায়দা জঙ্গি গোষ্ঠীর আক্রমণে প্রায় ৩০০০ মানুষ মারা গিয়েছিলেন, মঙ্গলবার সেই অভিশপ্ত কালো দিনের মৃতের সংখ্যাও পার করে ফেলেছে আমেরিকা। সেখানে বুধবার মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়ে ফেলেছে ৪ হাজার।

পারতপক্ষে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোভিড -১৯ এর মৃত্যুর সংখ্যা ছাপিয়ে গেছে চিনকেও। লাল চিনে মৃতের সংখ্যা এখনও চার হাজার ছোয়নি। কিন্তু ট্রাম্পের দেশ ইতিমধ্যেই পার করে ফেলেছে দেই মাপকাঠি। অন্যদিকে চিনে আক্রান্তের সংখ্যা কিছু থাকলেও নতুন করে সে দেশে কোনও নাগরিক আক্রান্ত হননি। ফলে আক্রান্তের সংখ্যা যে বৃদ্ধি পাবে এমন সম্ভাবনা নেই। কিন্তু মার্কিন মুলুকে পরিস্থিতি পুরোটাই উলটো। সে দেশে এখনও বহু মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে।

সারা বিশ্বে ইতিমধ্যে প্রায় ৮ লক্ষ ৬০ হাজার মানুষ এই মারণ ভাইরাসের কবলে পড়েছেন। এরমধ্যে আমেরিকা, ইতালি ও স্পেনের পরের স্থানেই রয়েছে চিন। করোনাতে আক্রান্তের বিচারে মার্কিন মুলুকের অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ।

বিষয়টিকে প্রথমে সেভাবে গুরুত্ব না দিলেও বর্তমান পরিস্থিতির জেরে শেষ পর‍্যন্ত সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশের মেয়াদ ৩০ এপ্রিল পর‍্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকার অন্যান্য শহর গুলিতেও এই লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তবুও তেমন কোনও আশার আলো দেখতে পাছে না আমেরিকা। এই অবস্থায় পৃথিবীর অন্য দেশগুলির মতোই মার্কিনদের ঘরের ভিতর থাকারই নিদান দিছেন ট্রাম্প।