পাটনাঃ  ক্রমশ বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। গোটা দেশজুড়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। বাংলা সহ প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতেও বাড়ছে সংক্রমণ। এই পরিস্থিতি কনটেনমেন্ট জোনগুলিতে নতুন করে ফের লকডাউনের ঘোষণা করা হয়েছে বাংলাতে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটা থেকে কড়া ভাবে লকডাউন করা হবে।

শুধু বাংলাতেই প্রতিবেশী রাজ্য বিহারেও সম্পূর্ণ লকডাউনের ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার বিহারে গত ২৪ ঘন্টায় সর্বোচ্চ করোনা আক্রান্ত হয়। প্রায় এক ধাক্কায় আক্রান্তের সংখ্যা হয় সাড়ে ৭০০ ছাড়িয়ে যায়। এরপরেই পাটনাতে সম্পূর্ণ লকডাউনের ঘোষণা করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

যেখানে সম্পূর্ণভাবে লকডাউন ঘোষণার কথা বলা হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী শুক্রবার ১০ জুলাই থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত সম্পূর্ণ লকডাউনের কথা বলা হয়েছে। তবে জরুরি পরিষেবা সমস্ত কিছু খোলা থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা থেকে ফের লকডাউন কলকাকাতায়। চিহ্নিত করা হল ২৫টি জোন। তারমধ্যে রয়েছে বড় রাস্তা, বস্তি, আবাসন। এক নজরে রইল সেই তালিকা। কলকাতা-সহ দুই ২৪ পরগনার কয়েকটি এলাকায় বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই নতুন করে লকডাউন ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।

ওই এলাকাগুলিতে নতুন করে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই আরও কড়াকড়ির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আপাতত ৭ দিনের জন্য ওই এলাকাগুলিতে নজরদারি চলবে। ৭ দিন পর পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী পদক্ষেপ করবে রাজ্য সরকার।

এপ্রসঙ্গে বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু কয়েকটা জায়গায় আক্রান্ত পাচ্ছি, তাই কন্টেনমেন্ট জোন। আপাতত ৭ দিনের জন্য কড়া নজরদারি চলবে। ৭ দিন পর পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

এরই পাশাপাশি করোনার সংক্রমণ রুখতে আবারও মাস্ক পরায় জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। মাস্ক ছাড়া বাইরে বেরোলে পুলিশকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘মাস্ক ছাড়া বেরোবেন না। মাস্ক পরে না বেরোলে বাড়ি ফেরত পাঠাবে পুলিশ।’

এদিকে, বেলাগাম সংক্রমণ গোটা দেশে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে দেশে ২২ হাজার ৭৫২ জন নোভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে দেশে মৃত্যু হয়েছে আরও ৪৮২ জনের। গোটা দেশে বুধবার সকাল পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৭ লক্ষ ৪২ হাজার ৪১৭। দেশে করোনায় মৃত্যু বেড়ে ২০ হাজার ৬৪২। লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৩ হাজারের কাছাকাছি মানুষ নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হলেন। একদিকে যেমন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে অন্যদিকে সুস্থও হচ্ছেন অনেকে।

বুধবার সকাল পর্যন্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গোটা দেশে এখনও পর্যন্ত করোনামুক্ত হয়েছেন ৪ লক্ষ ৫৬ হাজার ৮৩১ জন। এই মুহূর্তে দেশে করোনা অ্যাক্টিভ কেস রয়েছে ২ লক্ষ ৬৪ হাজার ৯৪৪টি। মহারাষ্ট্রেই দেশের মধ্যে সর্বাধিক সংক্রমণ। বুধবার সকাল পর্যন্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মহারাষ্ট্রে নোভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ২ লক্ষ ১৭ হাজার ১২১।

সেরাজ্যে করোনায় মৃত্যু বেড়ে ৯ হাজার ২৫০। মহারাষ্ট্রের পরেই সংক্রমণের নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তামিলনাড়ু। দক্ষিণের এই রাজ্যেও মাত্রাছাড়া সংক্রমণ। এখন পর্যন্ত তামিলনাড়ুতে ১ লক্ষ ১৮ হাজার ৫৯৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৬৩৬।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.