স্টাফ রিপোর্টার, হাবড়া: হাসপাতাল সুপারের আপত্তি সত্ত্বেও সরকারি হাসপাতালের রোগীদের রক্তের নমুনা ও বাকি নমুনার রিপোর্ট দেওয়ার বরাতে বেসরকারিকরণ করায় হয়রানির শিকার হলেন হাবড়া হাসপাতালের রোগী ও তাঁর আত্মীয়রা৷ রক্তের নমুনা, টাকা সব নেওয়ার পরেও নির্দিষ্ট দিনে রোগীদের রিপোর্ট পেলেন না উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের আত্মীয়রা৷

প্রায় পঞ্চাশ ষাট জন রোগীর আত্মীয় সোমবার সকালে হাসপাতালের নিদিষ্ট ঘরে রিপোর্ট আনতে গিয়ে দেখেন ঘর তালা বন্ধ৷ তাঁদের জানানো হয় রিপোর্ট দেওয়া হবেনা৷ এই নিয়ে হাসপাতাল সুপারের সঙ্গে দেখা করতে বলা হয় রোগীর আত্মীয়দের৷ তাঁদের অভিযোগ কারোর কাছ থেকে ৫০০ কারোর কাছ থেকে ৩০০-২০০ করে টাকা নেওয়া হয়েছে৷

রোগীর আত্মীয়রা হাবড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করে ওই রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে৷ মুখ্যমন্ত্রী বেসরকারি হাসপাতালের হাল ফেরানোর চেষ্টা করলেও যে দিনে দিনে সরকারী হাসপাতালে গুলোর অবস্থা অবনতির পথে যাচ্ছে তার জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে দাঁড়াল এবার হাবড়া হাসপাতাল৷ এদিন দুপুরে হাবড়া হাসপাতালের সুপার শঙ্করলাল ঘোষকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভও দেখায় রোগীর আত্মীয়রা পরে সুপার রোগীর আত্মীয় ও পরিবারকে আস্বস্ত্য করলে বিক্ষোভ থামে৷  এব্যাপারে হাসপাতালের সুপারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান হাসপাতালের পক্ষ থেকে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কে বরাত দেওয়া হয়েছিল কেন, তা তদন্ত করে দেখা হবে৷

যদিও সুপারের দাবি জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক(সিএমওএইচ) এর নির্দেশে বারাসাত জেলা হাসপাতালের রক্ত পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা সংস্থাকেই হাবড়া হাসপাতালের দায়িত্ব দেওয়া হয়৷ সাধারণ নিন্ম মধ্যবিত্তদের কথা মাথায় রেখে বিনা পয়সায় বা স্বল্প ব্যায়ে পরীক্ষা করানোর কথা হলেও ওই সংস্থা তা মানছে না সবার কাছ থেকেই পয়সা নিচ্ছে এবং রিপোর্টগুলিতে কিছু গরমিলও রয়েছে৷ তাতেই আপত্তি করেন হাসপাতাল সুপার কিন্তু এই সংস্থা সুপারের কথা বা কোনও নিয়ম তোয়াক্কা না করেই রোগীদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছিল ও ভুল রিপোর্ট দিচ্ছিল বলে দাবি করেন সুপার৷ তিনি এই সংস্থাকে নোটিশ দিলেও কোনও লাভ হয়নি বরঞ্চ বন্ধ হয় পরিষেবা আর সে কারণেই হয়রানির স্বীকার হন শতাধিক রোগী বলে জানান সুপার৷