স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: তোলাবাজি ও খুনের ষড়যন্ত্রে ধৃত ভাটপাড়ার নৈহাটি পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর গণেশ দাসকে ৭ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিল উত্তর ২৪ পরগণার বারাকপুর মহকুমা আদালত। ধৃত গণেশ সহ তার চার সাগরেদকেও একই নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ধৃত কাউন্সিলর গণেশ দাস তৃণমূল বিধায়ক অর্জুন সিং-এর ঘনিষ্ঠ৷

ধৃতদের প্রত্যেককে মঙ্গলবার দুপুরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে বারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে নৈহাটি থানার পুলিশ। ধৃত গণেশ সহ তার সাগরেদদের বিরুদ্ধে নৈহাটি থানায় ৩৪১, ৩২৫, ৩২৪, ৩০৭, ৩৪ আইপিসি এবং ২৫/২৭ অস্ত্র আইনে মামলা রুজু হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে বারাকপুর আদালতে পেশের সময় সংবাদ মাধ্যমের সামনে অভিযুক্ত নৈহাটির স্থানীয় দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন।

আরও পড়ুন: নির্মল বাংলা গড়তে মাছের চারা বিতরণ মৎস্য দফতরের

তিনি বলেন, ‘‘আমি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি। ওরা বালি মাফিয়াদের সঙ্গে মিলে আমাকে ফাঁসিয়েছে। আমি আমাদের দল নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের আদর্শ মেনেই দল করি। অর্জুন সিং আমার নেতা। ওরা দলটাকে শেষ করে দিচ্ছে। বালি মাফিয়াদের প্রশ্রয় দিচ্ছে৷ সেই মাফিয়ার টাকা না পেলে ওদের উৎসবের টাকা আসবে কোথা থেকে? আমি আগেই নৈহাটির বালি মাফিয়ায়ের বিষয়টি দুবার চিঠি দিয়ে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছি। জানিনা দলের অন্দরে কি হচ্ছে।’

আরও পড়ুন: বিনা ঘোষণায় স্টেশনে ট্রেন, অল্পের জন্য রক্ষা শ্যামনগরে

যদিও গণেশ দাসের কথায় গুরুত্ব দিতে নারাজ নৈহাটির স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। নৈহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, ‘‘শুনেছি ও কিডনি পাচার চক্রে জড়িত আছে৷ দুষ্কৃতীদের নিয়ে লাল বাবা ঘাট এলাকায় দলেরই কর্মীর বাড়িতে বন্দুক নিয়ে চড়াও হয়েছিল। ও থাকে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে, কিন্তু ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে কি করতে গিয়েছিল সেটা বুঝে উঠতে পারিনি। জনতার হাতে আগ্নেয়াস্ত্র সহ ধরা পড়েছে৷ তারাই পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। আইন আইনের পথে চলবে। নৈহাটিতে অবৈধ বালির কারবার হয় না। ওর অভিযোগ অসত্য।’’

এদিকে গণেশ দাসের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে মুখ খোলেননি ভাটপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক অর্জুন সিং। অন্যদিকে বারাকপুরের পুলিশ কমিশনার সুনীল কুমার চৌধুরী বলেন, ‘‘ওই কাউন্সিলর গ্রেফতার হয়েছে। ওনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ রয়েছে তার তদন্ত চলছে। আইন আইনের পথেই চলবে।’’

ধৃত অভিযুক্ত গণেশ দাস নৈহাটি পুরসভার শুধুমাত্র যে অর্জুন সিং ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কাউন্সিলর তাই নয়৷ তিনি নৈহাটি পুরসভার শিক্ষা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পুর পারিষদও। গণেশ দাসের গ্রেফতারি এবং নৈহাটির স্থানীয় দলীয় তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তার বিস্ফোরক অভিযোগ নৈহাটির তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কোন্দলকেই প্রকাশ্যে এনে দিল। তবে তৃণমূল কাউন্সিলর গণেশ দাস গ্রেফতারি ইস্যুতে বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে উত্তর ২৪ পরগণার দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব। উত্তর ২৪ পরগণা জেলা শীর্ষ নেতৃত্ব সূত্রের জানা গিয়েছে, নৈহাটির রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রেখেছে দল।