নয়াদিল্লি: সুনন্দা পুষ্কর মৃত্যু রহস্য মামলায় এবার শশী থারুরকে সশরীরে আদালতে হাজিরার নির্দেশ দিল দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্ট৷ আগামী জুলাইয়ের ৭ তারিখে আদালতে হাজিরা দিতে হবে কংগ্রেস নেতা শশী থারুরকে৷

মঙ্গলবার দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্ট কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরকে আদালতে হাজিরা দেওয়ার জন্য তলব করেছে৷ জুলাইয়ের ৭ তারিখে তাঁকে হাজিরা দিতে হবে৷ ২০১৪ সালের ১৭ ই জানুয়ারি নয়াদিল্লির একটি হোটেলে রহস্যজনক ভাবে মারা যান শশী থারুরের স্ত্রী সুনন্দা পুষ্কর৷ সেই মৃত্যু রহস্য মামলা এখনও চলছে৷ নিজের স্ত্রীকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগেই তাঁকে তলব করেছে আদালত৷

শশী থারুরের বিরুদ্ধে নিজের স্ত্রীকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়া ও হিংস্র আচরণের অভিযোগ রয়েছে৷ ভারতীয় দন্ডবিধির দফা ৩০৬ ও দফা ৪৯৮এ তে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা চলছে৷

দিল্লির লীলা প্যালেস হোটেলে ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি রহস্যজনক ভাবে মারা যান শশী থারুরের স্ত্রী সুনন্দা পুষ্কর৷ CBI তদন্তের পর শশী থারুরকে নিজের স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়া ও হিংস্র আচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়৷ দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্ট সেই মামলাতেই হাজিরার তলব করেছে কংগ্রেস সাংসদকে৷

চার্জশিট পাওয়ার পরই তাঁরা নিজেদের পরবর্তী কাজ স্থির করবেন বলে জানিয়েছেন শশীর আইনজীবী বিকাশ পাহা৷ ইতিমধ্যে দিল্লি পুলিশ গত সপ্তাহে ৩০০০ পাতার চার্জশিট জমা দিয়েছে আদালতে৷ সেখানেই শশীকে পাঠানো সুনন্দার শেষ ইমেল যোগ করেছে পুলিশ৷ সেখানে নিজের আত্মহত্যার কথা ও শশীর প্ররোচনার কথা লেখা আছে৷ আত্মহত্যার ৯ দিন আগে সেই শেষ ইমেল নিজের স্বামীকে পাঠান সুনন্দা৷ সেটাকেই মৃতার শেষ স্টেটমেন্ট হিসাবে দাখিল করেছে দিল্লি পুলিশ৷

এই মামলায় স্পেশাল তদন্তকারী দলও শশী থারুরের বিরুদ্ধে সম্পর্কের অবহেলার অভিযোগ আনে৷ তাদের রিপোর্টেও সুনন্দার আত্মহত্যার পিছনে শশীর পরোক্ষ ভূমিকার কথা বলা হয়েছে৷ সব মিলিয়ে দিল্লি পুলিশ ও বিশেষ তদন্তকারী দলের দুটি রিপোর্টেই শশী থারুরের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেবার অভিযোগ উঠেছে৷ দুটি রিপোর্টেই শশীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে মানসিক অত্যাচার করার কথা বলা হয়েছে৷

সেই কারণেই দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্ট এই মামলায় আদালতে হাজির হয়ে নিজের বয়ান দেবার জন্য তলব করল এই কংগ্রেস সাংসদকে৷ আগামী ৭ জুলাই আদালতে হাজির হয়ে নিজের স্বপক্ষে বয়ান দিতে হবে শশী থারুরকে৷ আদালতের তলবের পর এই মামলা আরও উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠল তা বলাই যায়৷