স্টাফ রিপোর্টার, সিউড়ি: এস আই অমিত চক্রবর্তী খুনের ঘটনায় দায়সারা তদন্ত হয়েছে৷ তাই দুবরাজপুরের তৎকালীন এস আই অমিত চক্রবর্তী খুনে ধৃত ১৮  জনকে বেকসুর খালাস দিলেন বিচারক। সোমবার সিউড়ি অতিরিক্ত জেলা দায়রা অদালতের বিচারক বলেন, ‘এই মামলায় তদন্ত দায়সারা করা ভাবে হয়েছে৷ সঠিক ভাবে তদন্ত হয় নি৷ তাই অভিযুক্তদের বেকসুর খালাস করা হল৷’

অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক সোমেশচন্দ্র পালের রায় শুনে আদালত চত্বরে কান্নায় ভেঙে পড়েন অমিতবাবুর স্ত্রী পুতুল চক্রবর্তী। তিনি বলেন, তাঁর স্বামীর সহকর্মীরা চায়নি অমিতের খুনিরা শাস্তি পাক। তাই এভাবে স্বামীর খুনিদের খালাস করে দেওয়া হল। সরকারি আইনজীবী তপন গোস্বামী বলেন, পুলিশ যা সাক্ষী দিয়েছে তার ভিত্তিতে বিচারক সঠিক রায় দিয়েছেন।

দুবরাজপুর থানার এস আই অমিত চক্রবর্তীর মৃত্যুর পর থেকেই মামলায় রাজনৈতিক রঙ লাগে। যদিও তার মৃত্যুর কারন রাজনৈতিক ঝামেলা থামাতে গিয়েই। দুবরাজপুরের গোপালপুর আউলিয়া গ্রামে ২০১৪ সালে দুটি গ্রামের বিবাদ থামাতে যান অমিতবাবু। সেদিন ছিল ৪ঠা জুন।সন্ধে আটটা নাগাদ গ্রামে পৌঁছানোর আগেই পুলিশের গাড়ি থেকে নামতেই তাদের লক্ষ্য করে অন্ধকার থেকে বোমা ছোঁড়া হয়। বোমা এসে লাগে অমিত চক্রবর্ত্তীর পেটে।

তারপর ৫১ দিন লড়াই চালানোর পর মৃত্যু হয় এস আই অমিত চক্রবর্তীর । ঘটনাচক্রে দুবরাজপুর থানার ও সি ত্রিদিব প্রামানিক এলাকায় রাজনৈতিক ভারসাম্য রাখতে ওই এলাকার সিপিএম তৃণমূল দু দলেরই ৪৮ জনের নামে অভিযোগ জমা দেন। যাতে এলাকার তৎকালীন সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য শেখ মকতুল সহ তিনজনের নাম ছিল৷

অন্যদিকে তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি তথা দুবরাজপুর পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ শেখ আলিম সহ চার জনের নাম জড়ায় এই ঘটনায়৷ পুলিশের তরফে চার্জশিট জমা দেওয়া হয় ৫০ জনের নামে। কিন্তু তাদের মধ্যে কয়েক দফায় মোট ২১ হজকে গ্রেফতার করা গেলেও, বাকি ২৯ জন পুলিশের খাতায় কলমে আত্মগোপন করে আছে।

পুলিশের ধৃত সেই ২১ জনকেই সোমবার বেকসুর খালাস দিলেন বিচারক। কারন ২০টি সাক্ষ্যের মধ্যে ১৮ জনই পুলিশ কর্মী। ওসি অভিযোগ করেন, সহকর্মী রঞ্জিত বাউড়ি ঘটনার তদন্তকারী অফিসার। অথচ তারা কেউই মামলা চলাকালীন জেল বন্দি অভিযুক্তদের চিনতে পর্যন্ত পারলেন না।

এই নিয়েই বারবার প্রশ্ন তুলেছে অমিত চক্রবর্তীর পরিবার থেকে তার স্ত্রী পুতুল চক্রবর্তী। পুতুলদেবী বলেন, ‘স্বামী অসুস্থ থাকাকালীনই এমন অবস্থা হয়েছিল, তার মৃত্যু কামনা করেছিল অনেক সহকর্মী। আমি চেয়েছিলাম, অমিতের মৃত্যুতে অন্তত প্রকৃত খুনিরা শাস্তি পাক।কিন্তু প্রথম থেকেই মামলা চলেছে রাজনৈতিক মদতে।’

আরও পড়ুন : “রথযাত্রার নামে আসলে ভোটযাত্রা করছে বিজেপি”

২০১৬ সালে অভিযুক্ত ৫০ জনের মধ্যে থেকে ৩৬ জনের নাম বাদ দিতে সরকারের কাছে আবেদন করেন সরকারি আইনজীবী। তৎকালীন সরকারি আইনজীবী রণজিত গঙ্গোপাধ্যায় দাবি করেন, সরকার আর এদের বিরুদ্ধে মামলা চালাতে আগ্রহী নয়। এই ঘটনার পরপরই পুতুল চক্রবর্ত্তী জেলাশাসককের কাছে সরকারি আইনজীবী বদলের আবেদন করেন। তখন থেকেই তপন গোস্বামী মামলাটি পরিচালনা করছেন।

কিন্তু মামলা চলাকালীন বারেবারে বিতর্কে জড়িয়েছে পুলিশ। কারন সাক্ষ্যের তালিকায় মৃত অমিত চক্রবর্তীর নাম পেশ করা হয়। চার্জশিটের কার্বন কপি ছিল না বলে অভিযোগ তোলে বিরোধীরা। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে কলকাতা উচ্চ আদালতে আবেদন করা হবে কিনা, সরকারি তরফে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকারি আইনজীবী মলয় মুখোপাধ্যায় জানান, আগামী দু তিন দিনের মধ্যে রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে যাব কিনা।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও