স্নেহাশিস চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ মেটাতে কোনও আইনি বা মনোবিদের পরামর্শ নয়, কিংবা মন বদলাতে কোথাও ভ্রমণ নয় , দম্পতির কাউন্সিলিং করতে মিশনের মহারাজের কাছে গিয়ে কথা বলতে নির্দেশ দিলেন বিচারপতি নাদিরা পাথেরিয়া।

পাশাপাশি পুলিশকে ওই দম্পতির বাড়ির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ব্যারাকপুর থানার ওসিকেও ওই দম্পতিকে মহারাজের কাছে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন বিচারপতি।

আরও পড়ুন: গ্রামের মাঠে অজগর দেখে ছড়াল আতঙ্ক

শুক্রবার মামলা চলছিল ব্যারাকপুরে এই মামলা চলছিল। সেখানেই স্বামী – স্ত্রী’র দ্বন্দ কাটাতে মঠের স্বামীজির দ্বারস্থ হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। স্বামী-স্ত্রী দ্বন্দ্ব এখন ‘কাহানি ঘর ঘর কি’-র মতো হয়ে গিয়েছে। দ্রুত জীবনযাত্রা। কেউই মানিয়ে চলতে রাজি নয়। জেদাজেদিতে বাড়ে ঝামেলা।

সেই ঝামেলার প্রভাব গিয়ে পড়ে সন্তানের উপর। ঠিক এই স্বার্থটাই দেখেছেন বিচারপতি। দম্পতির নাবালিকা মেয়ে এই বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে। তাই বাড়ির পরিস্থিতি সুস্থ্ স্বাভাবিক না থাকলে পরীক্ষার ফল খারাপ হতে পারে। শুধুমাত্র দম্পতির মেয়ের কথা ভেবে পুলিশকে পরস্থিতি সব সময় খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। তিন মাস পর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

আরও পড়ুন: সচিনের থেকে কি কেড়ে নেওয়া হবে ভারতরত্ন

এদিন বেলতলা নতুনপাড়ার বাসিন্দা স্বামী তারকনাথ ও স্ত্রী বীনারানী সরকারকে নিজের কাছে ডেকে নেন বিচারপতি পাথেরিয়া। আদালতে তখন স্বামী-স্ত্রী বিচারপতির সামনে দাঁড়িয়ে একে-অপরের প্রতি বিষোদগার করছিলেন। তারকবাবুর অভিযোগ , গিন্নী বহু বার বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছেন।

ফের বাড়িতে এসে পরিবারের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছেন। ওদিকে বীনা দেবীর পালটা অভিযোগ, স্বামী তাঁর এবং মেয়ের উপর অকথ্য অত্যাচার চালিয়েছেন। বাড়ি ছাড়া করেছেন। মেয়ে ভোলানন্দা ন্যাশনাল বিদ্যাপীঠ নামের স্থানীয় এক ইংরেজি মাধ্যমে পড়ে। এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে। বাড়িতে এই অশান্তিতে মেয়েকে পড়াশুনা করানো যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন: ফেসবুক খুললেই কোটিপতি হতে পারেন আপনি

এরপরেই বিচারপতি দু’জনকেই ‘মহারাজকীয়’ বিধান দেন। তিনি বলেন , “আমি কাউকে দোষারোপ করছি না। দুজনের একেঅপরের প্রতি অভিযোগ রয়েছে । তবে এটা আপনাদের দুজনেরই বাড়ি। আমি আপনার স্বামীকে বলে দিয়েছি উনি আপনাকে আর মারবেন না।

আপনি মামলা লড়তে সরকারি আইনজীবী পাবেন। শুনেছি ওখানে রামকৃষ্ণ মিশন রয়েছে। আপনারা দুজনেই ওখানে যান। গিয়ে মহারাজের সঙ্গে কথা বলুন। আমি ঠিকানা খুঁজে দিচ্ছি। প্রয়োজনে আমি ওনাকে বলে দিচ্ছি আপনাদের কাউন্সিলিং করতে।”

আরও পড়ুন: শরীরের কালো দাগ দূর করুন কেবল লেবু দিয়ে

তারপর তারকবাবুকে লক্ষ্য করে বিচারপতি বলেন , “মুচকে-মুচকে হাসতে নেই। আপনি তো খুব ভালো মানুষ। কেন ঝগড়া করছেন? আপনার স্ত্রী বদমেজাজি। সবাই কি একধরণের হয়?” এই মামলার নির্দেশ দিতে গিয়ে বিচারপতি আরও বলেন , এই দম্পতির নাবালিকা মেয়েকে জুভেনাইল কমিটির কাছে পাঠানো যেত কিন্তু ওর মাধ্যমিক পরীক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে আর তা করা গেল না।

আরও পড়ুন: কম্পিউটারের সামনে বসে চোখের সমস্যা নিরাময়ের উপায় জেনে নিন