পূর্ব ববর্ধমান : বর্ধমান উন্নয়ন সংস্থার সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার অনিমেষ রায়ের আগাম জামিন নাকচ করে দিলেন জেলা আদালত বিচারক বিভাসরঞ্জন দে। মঙ্গলবার তাঁর আগাম জামিনের মামলার শুনানি ছিল।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৪-২০১৫ আর্থিক বছরে বর্ধমান পুরসভার ১২ নং ওয়ার্ডের সেন্ট্রাল পার্কে একটি নিকাশি নালা করার সিদ্ধান্ত নেয় বিডিএ(বর্ধমান উন্নয়ন সংস্থা)। পার্কের চারদিকে মোট ১৫০০ মিটার এই নালা তৈরির জন্য ৩২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়। এব্যাপারে একটি ঠিকাদার সংস্থা কাজের বরাতও পায়। ঠিকাদার সংস্থা কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে বলে বিল জমা দেয়৷ সেই টাকা অনুমোদন করে দেওয়া হয়।

এর কিছুদিন পর বিডিএ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ আসতে শুরু করে মোট কাজের মাত্র ৮০০ মিটার করেই ঠিকাদার সংস্থাকে পুরো টাকা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। এব্যাপারে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হয়। এদিকে, তদন্তের মাঝেই ২০১৬ সালের জুন মাসে অনিমেষবাবু পর্ষদের কাজ ছেড়ে চলে যান। অভিযোগ ওঠে, তার মদতেই কাজ অসম্পূর্ণ করেই ঠিকাদারকে টাকা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। এব্যাপারে পর্ষদ অনিমেষবাবুকে শোকজ করেন। কিন্তু যুতসই জবাব না পাওয়ায় পর্ষদের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়।

গ্রেফতারি এড়াতে তিনি বর্ধমান আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেন। মঙ্গলবার সেই আবেদনের শুনানিতে তার আইনজীবী স্বপন বন্দোপাধ্যায় জানান, এই বিল পেমেণ্ট করতে অনেক দফতরই অনুমোদন দিয়েছে। ফলে কেবলমাত্র অনিমেষবাবুকেই দায়ী করা ঠিক নয়। বরং তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্য কিছুকে আড়াল করতেই তাকে ফাঁসানো হয়েছে বলে আদালতকে জানান তিনি। অন্যদিকে, সরকারি আইনজীবী অনিল ঘোষ জামিনের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারের রিপোর্টের ভিত্তিতেই ঠিকাদারকে টাকা দেওয়া হয়েছে। দু’পক্ষের সওয়াল জবাব শুনে বিচারক অনিমেষ রায়ের আগাম জামিন নাকচ করে দেন।