স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: মডেল সোনিকা সিংহ চৌহানের মৃত্যুতে দায়ের হওয়া অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলায় গ্রেফতারি এড়াতে পুলিশের সঙ্গে কার্যত ‘লুকোচুরি’ খেলছিলেন অভিনেতা বিক্রম চট্টোপাধ্যায়৷ পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করলেও তিনি গরহাজির ছিলেন৷একাধিকবার তাঁর বাড়িতে গিয়েও পাওয়া যায়নি৷ ফোনেও পাওয়া যায়নি৷ শুক্রবার আলিপুর আদালতে বিক্রমের বিরুদ্ধে এমনটাই অভিযোগ করলেন সরকারি আইনজীবী সৌরিন ঘোষাল৷গ্রেফতারির পরে শুক্রবার আলিপুর আদালতের ৬নম্বর জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কনিকা রায়ের এজলাসে তোলা হয় বিক্রমকে৷বিচারক সওয়াল-জবাব শুনে বিক্রমের তিনদিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক৷

সোনিকা সিং চৌহানের মৃত্যু রহস্যে অভিনেতা বিক্রমের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন না৷ এমনকি তিনি পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে গেছেন৷ বিক্রমের জবানবন্দী যে মিথ্যা তা প্রমাণ করে দেয় তাঁরই গাড়ির উন্নত মানের প্রযুক্তি৷জামিনে মুক্ত থাকা বিক্রমের বিরুদ্ধে এরপর জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করা হয়৷ ইতিমধ্যেই বিক্রম আগাম জামিনের আবেদন করেন৷কিন্তু আগাম জামিনের আবেদনের শুনানির আগেই পুলিশ গ্রেফতার করে বিক্রমকে৷

অভিনেতা বিক্রমের আইনজীবি অনির্বাণ গুহঠাকুরতা বলেন, পুলিশ একাধিকবার তাঁর মক্কেলকে জেরা করে৷ প্রতিবারই তদন্তে বিক্রম সহযোগিতা করেন পুলিশের সঙ্গে৷ কিন্তু সংবাদমাধ্যমের চাপে জামিনে মুক্ত থাকা বিক্রমের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করা হয়৷ আগাম জামিনের আবেদনের শুনানির দিন ঠিক হওয়াতেই পুলিশ তড়িঘড়ি বিক্রমকে গ্রেফতার করে৷আদালতে তিনি বলেন “জামিনে মুক্ত থাকার পরেও পুলিশ কি করে গ্রেফতার করে তাঁকে? যে কোনও শর্তে তাঁকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হোক”৷

এদিকে সরকারী আইনজীবি সৌরিন ঘোষাল বলেন, গত ৫ই মে বিক্রমকে জামিনে মুক্ত করা হয় এবং আদালতের নির্দেশ ছিল তদন্তে পুলিশকে সাহায্য করতে হবে৷ কিন্তু এক্ষেত্রে বিক্রম তা করেননি৷বরং তদন্তের অভিমূখ গোরানোর চেষ্টা করেন বিক্রম৷ পুলিশকে তিনি বয়ান দেন গাড়ির গতিবেগ নিয়ন্ত্রনে ছিল৷কিন্তু গাড়ির প্রযুক্তি অন্য কথা বলে৷ দেখা যায় দুর্ঘটনার কয়েক সেকেন্ড আগেও তাঁর গাড়ির গতিবেগ ছিল ঘন্টায় ১০৫ কিমি৷ বিক্রম একবার বলেন তিনি মদ্যপান করেননি একবার বলে অল্প পরিমানে
মদ্যপান করেন কিন্তু পুলিশ ৬জনের গোপন জবানবন্দি নেয় এবং জবানবন্দিতে জানা যায় অভিনেতা বিক্রম একাধিক পানশালায় মদ্যপান করেন৷ এমনকি তাঁর গাড়ি থেকেও মদের বোতল পাওয়া যায়৷

সরকারী আইনজীবি বলেন, গত চল্লিশ দিনে বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় কিন্তু তিনি পুলিশের সঙ্গে লুকোচুরি খেলছিলেন৷তিনি আরও বলেন মূলত দুটি কারনে তাঁকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে৷ প্রথমত, দুর্ঘটনার পুণর্গঠন করতে বলা হবে অভিনেতা বিক্রমকে৷ দ্বিতীয়ত, বিক্রম কেন এমন ঘটনা ঘটাল তা জানতে চাওয়া হবে৷ দুপক্ষের সওয়াল জবাব শুনে বিচারক বিক্রমের ১০ তারিখ পর্য়ন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন৷