প্রতীকী ছবি

নয়াদিল্লি: এমন কিছু একটা ঘটতে চলেছে তার আঁচ মিলেছিল গত বছরেই। শবরিমালা মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশাধিকার নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষণার পর থেকে দাবিটা জোরাল হতে শুরু করে।

সেই জল্পনা সত্যি করে মসজিদে মহিলাদের প্রবেশাধিকার চেয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে দায়ের হল মামলা। মঙ্গলবার তাঁদের আবেদনের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হবে। ওই দম্পতি হলেন জুবের আহমেদ পিরজাদে এবং ইয়াসমিজ জুবের আহমেদ পিরজাদে।

আদালতে মহারাষ্ট্রের ওই দম্পতির করা আবেদনে বলা হয়েছে যে মহিলাদের মসজিদে ঢুকতে না দেওয়ার প্রথাটি বেআইনি ও অসাংবিধানিক। পাশাপাশি এই বিষয়টি ভারতীয় সংবিধানে উল্লেখিত ১৪, ১৫ ২১, ২৫ এবং ২৯ নম্বর ধারার বিরোধী।

ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হজরত মহম্মদ মহিলাদের মসজিদে প্রবেশে যেমন বিরোধিতা করেননি বলে দাবি করেছেন ওই দম্পতি। একই সঙ্গে পবিত্র কোরানেও এই বিষয়ে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই বলেও সুপ্রিম কোর্টে লিখিত আবেদনে জানিয়েছেন তাঁরা। ওই দম্পতির কথায়, “কোরানে কোথাও পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে বিভাজন করা হয়নি। সেখানে শুধুমাত্র বিশ্বাসের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু, এখন ইসলাম এমন একটি ধর্মে পরিণত হয়েছে যেখানে নারীদের নির্যাতিত হতে হচ্ছে।”

বর্তমানে জামাত-ই-ইসলামি ও মুজাহিদ গোষ্ঠীগুলির অধীনে থাকা মসজিদগুলোতে শর্তাসাপেক্ষে মহিলাদের প্রবেশ করার অনুমতি থাকলেও সুন্নি সম্প্রদায়ের মসজিদে নেই। এমনকী যেখানে আছে সেখানেও পুরুষদের সঙ্গে একই দরজা দিয়ে মসজিদে ঢুকতে বা বের হতে পারেন না মহিলারা।

গত বছর কেরলের শবরীমালা মন্দিরে সববয়সী মহিলাদের প্রবেশ করতে দিতে হবে বলে নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি মসজিদে প্রার্থনা করার ক্ষেত্রেও মহিলাদের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপানোর বিরোধিতা করে। আর এতেই অনুপ্রাণিত হয়ে মসজিদে মহিলাদের প্রবেশাধিকারের বিষয়ে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।

গতবছর সেপ্টেম্বর মাসে কেরলের শবরীমালা মন্দিরে আয়াপ্পা স্বামীকে দর্শনের জন্য সববয়সী মহিলাদের প্রবেশ করতে দিতে হবে বলে নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। বিভিন্ন নারী সংগঠনগুলি ও কেরল সরকারের পক্ষ থেকে এই রায়কে স্বাগত জানানো হলেও বিরোধিতায় নামেন আয়াপ্পা ভক্তরা। এর জেরে রাজ্যব্যাপী উত্তেজনারও সৃষ্টি হয়। যদিও পরে পিছপা হতে বাধ্য হন আয়াপ্পা ভক্তরা।