লখনউ: বিজেপি ছেড়েছেন আগেই। এবার কুম্ভমেলার প্রসঙ্গ তুলে বিজেপি সরকারকে একহাত নিলেন সাবিত্রীবাই ফুলে। বললেন, শুধু কুম্ভ মেলা করলে আর মন্দিরতৈরি করলেই দেশ এগিয়ে যাবে না। সঠিকভাবে সংবিধানের প্রয়োগ প্রয়োজন।

বছরের শুরুতেই তিনি মুখ খুললেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বিরুদ্ধে। বিজেপি’‌র এই প্রাক্তন নেত্রীর মন্তব্যে বেশ অস্বস্তিতে পড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কারণ সেখানে রামমন্দির নিয়ে উন্মাদনা, হিন্দু রাষ্ট্র বানানোর জন্য মন্তব্য করা এবং গোরক্ষকদের তাণ্ডব নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এই মন্তব্য যোগীর বিরুদ্ধেই সিলমোহর দিল বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিন সাবিত্রীবাঈ ফুলে বলেন, ‘‌যেখানে তফসিলী জাতি, উপজাতি তাঁদের অধিকার ও কর্মসংস্থানের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন সেখানে উত্তরপ্রদেশ সরকার কুম্ভ ও মন্দিরের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করছে। কুম্ভ আর মন্দির কি তফসিলী জাতি, উপজাতি এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রয়োজন মেটাবে?‌ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ঘোরাতেই এইসব করা হচ্ছে।’‌

সাবিত্রীবাঈ ফুলে ২০১৪ সালে বাহারাইচ কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে সাংসদ হয়েছিলেন। কিন্তু গত ৬ ডিসেম্বর যোগী আদিত্যনাথ প্রশাসনের নানা ভুল কার্যকলাপ দেখে দল থেকে পদত্যাগ করেন।

বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে কিছুদিন আগেই দল ছাড়েন সাংসদ সবিত্রীবাই ফুলে। একটি জনসভায় তিনি বলেন, বিজেপি সরকার পরিকল্পনা করে সংবিধানের সংরক্ষণের বিপক্ষে যাওয়ার কুচক্র তৈরি করছে। তাঁর মতে আম্বেদকরের সংবিধান অনুযায়ী চলতে হবে।

রাম মন্দির ইস্যুতেও দলের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন তিনি। সালেমপুরের এক সভায় তিনি বলেন, অযোধ্যায় রাম নয় বুদ্ধ মন্দির হওয়া উচিৎ। সাবিত্রী বলেন, ‘অযোধ্যা রাম মন্দির হতে পারে না। হবে বুদ্ধ মন্দির।” ওই সভাতেই তিনি বলেন, ”আজ যে আমি সাংসদ, তা শুধুমাত্র আম্বেদকরের জন্য।”

হনুমানকে নিয়ে করা যোগীর মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেন এই সাংসদ। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেন, হনুমান ছিলেন একজন দলিত। তিনি জঙ্গলে থাকতেন। দেশের উত্তর থেকে দক্ষিণ সব জায়গার মানুষের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করতে চেয়েছিলেন তিনি। এরপরই ফুলে এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বলেন, হনুমান যদি দলিত হয়ে থাকেন তাহলে দেস জুড়ে সব হনুমান মন্দিরে পূজারী হিসেবে দলিতদের নিয়োগ করা হোক। এই ঘটনার কয়েকদিন পরই দল ছাড়লেন তিনি।

ফুলে আরও বলেন, হনুমান সবসময় রামের পাশে দাঁড়ালেও রাম কেন তার মর্যাদা দেননি?