নয়াদিল্লি: ফের বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোপের মুখে মোদী সরকার৷ মঙ্গলবার ট্যুইট করে মোদী সরকারকে একহাত নেন মমতা৷ তিনি বলেন বিজেপি শাসিত কেন্দ্র সরকারের জমানায় গত ৫ বছর ধরেই সুপার এমার্জেন্সি চলছে৷

এদিন মমতা বলেন ১৯৭৫ সালে দেশে যে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিল, আজ তার উদযাপন বার্ষিকী৷ কিন্তু গত পাঁচ বছর ধরেও দেশের সুপার এমার্জেন্সি জারি করে রাখা হয়েছে৷ মোদীর শাসনকাল ধরে এই সুপার এমার্জেন্সি চলছে দেশে৷ দেশের গণতন্ত্রের ওপর বারবার আক্রমণ চলছে৷ স্বাধীন সংস্থাগুলির ওপর আঘাত আসছে বলে অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

অন্যদিকে, ১৯৭৫ সালে লাগু হওয়া দেশের জরুরি অবস্থা নিয়ে মুখ খোলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও৷ তিনি বলেন দেশের সেই কঠিন পরিস্থিতিতেও যারা স্বাধীনতচেতা ছিলেন, মাথা উঁচু করে কাজ করে গিয়েছেন, সরকার তাঁদের শ্রদ্ধা জানায়৷

মমতার বক্তব্যের বিরোধিতা করে রাজ্যে গণতন্ত্রে অচলাবস্থা চলছে বলে অভিযোগ করেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি তথা মেদিনীপুরের সাংসদ দিলীপ ঘোষ৷ তিনি বলেন রাজ্যে মানুষ নিজের স্বাধীন মতামত প্রকাশ করতে পারে না৷ পুলিশ এবং শাসকদলের নেতাদের ভয়ে-ভয়ে বাঁচতে হয়৷ আবার স্যোশাল মিডিয়ায় রাজ্য সরকার বা তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কোনও পোস্ট করলেই বাড়িতে পুলিশ চড়াও হয়৷ পশ্চিমবঙ্গের এই অবস্থা ইন্দিরা গান্ধীর সময়ে জরুরি অবস্থার সঙ্গে অনেকাংশে তুলনীয় – দাবি করেছেন দিলীপ৷ মঙ্গলবার, সংসদভবনের বাইরে সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে জরুরি অবস্থার মতোই পরিস্থিতি৷

১৯৭৫ সাল ২৫ জুন দেশ জুড়ে জারি হয় জরুরি অবস্থা। সেই সময় দেশের রাষ্ট্রপতি ফকরুদ্দিন আলি আহমেদ৷ প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরার নির্দেশে জারি হয় জরুরি অবস্থা৷ ২৫ জুন, ১৯৭৫ থেকে ২১ মার্চ, ১৯৭৭ – এই ২১ মাস জরুরি অবস্থা স্বাধীন ভারতের একটি বিতর্কিত অধ্যায়৷ প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরার আমলের এই জরুরি অবস্থা পরবর্তীকালে অনেক বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল৷ বিজেপি জরুরি অবস্থাকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়েছে৷ বিজেপির নেতারা বলছেন, ওই সময়ে কংগ্রেস সরকার কোনও নির্বাচন করেনি৷

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV