স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: বহিরাগত দুষ্কৃতী দিয়ে তৃণমূল কাউন্সিলরদের মারধর করলেন খোদ তৃণমূল পৌরপ্রধান? সোমবার হালিশহর পৌরসভার ঘটনা তো তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে৷ গোটা ঘটনায় রীতিমত অস্বস্তিতে শাসকদল তৃণমূল৷

সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার বিজপুর থানার অন্তর্গত হালিশহর পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসারের ঘরেই তৃণমূল কাউন্সিলারদের কয়েকজনকে মারধোর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেবার অভিযোগ উঠল শাসকদলেরই আশ্রিত বহিরাগত দুষ্কৃতীদলের বিরুদ্ধে। ফের একবার প্রকাশ্যে চলে এল হালিশহরে তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব।

জানা গিয়েছে, সোমবার দুপুরে ডেঙ্গু সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার জন্য পৌরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসারের ঘরে গিয়েছিলেন বেশ কয়েকজন তৃণমূল কাউন্সিলর। আক্রান্ত তৃণমূল কাউন্সিলরদের অভিযোগ, সভাকক্ষে আলোচনা চলাকালীন পুরপ্রধান অংশুমান রায়ের নেতৃত্বে শুভঙ্কর ঘোষ ওরফে সোনাই, পাপন ঘোষ, প্রশান্তসহ একদল বহিরাগত দুষ্কৃতী অন্য তৃণমূল কাউন্সিলারদের উদ্দেশ্যে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

প্রতিবাদ জানালে বেশ কয়েকজন কাউন্সিলারকে সভাকক্ষের মধ্যেই মেঝেতে ফেলে বেধড়ক পেটানো হয়। এমনকি কাউন্সিলারদের প্রাণনাশেরও হুমকি দেবার অভিযোগ উঠেছে বহিরাগত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। হামলায় আহত হয়েছেন ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বন্ধুগোপাল সাহা, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কল্পনা বিশ্বাস এবং তার স্বামী শ্যামল বিশ্বাস, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বনানী চক্রবর্তী, ৬ নম্বর ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর যথাক্রমে মহাদেব বিশ্বাস ও অশোক যাদব।

ঘটনার পর কাউন্সিলার কল্পনা বিশ্বাস বিজপুর থানার পুলিশের দ্বারস্থ হয়ে পৌরপ্রধান অংশুমান রায় সহ হামলাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অপরদিকে, হালিশহর পৌরসভার এক কর্মচারী চন্দ্রোদয় চক্রবর্তী, কাউন্সিলর কল্পনা বিশ্বাসের স্বামী শ্যামল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে পালটা অভিযোগ দায়ের করেছেন বিজপুর থানায়। চন্দ্রোদয় বাবুর অভিযোগ, তাকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়েছে।

তবে কাউন্সিলরদের ওপর হামলার অভিযোগ প্রসঙ্গে পৌরপ্রধান অংশুমান রায় বলেন, ‘পৌরসভার মধ্যে এমন কোনও বড় ঘটনা ঘটেনি। ৩-৪ জন তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর বহিরাগত লোকজন নিয়ে এসে পুরসভার মধ্যে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করেছিল । ওই বহিরাগতদের পুরসভা থেকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়েছে । সবটাই আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার মাত্র।’ বিজপুর থানার পুলিশ অবশ্য এই বিষয় নিয়ে মুখ খোলেনি।

তবে যে যাই সাফাই দিন, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বিষয়টিকে যে আর ধামাচাপা দেওয়া যাচ্ছে না, তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলেই মনে করছে জেলার রাজনৈতিক মহল৷ আসন্ন লোকসভা ভোটের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের এই অন্তর্কলহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে প্রচারের নতুন অস্ত্র তুলে দিচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা৷