কলকাতা: দোহায় গিয়ে কাতারকে রুখে দিয়ে আসা দলটা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যে এভাবে মুখ থুবড়ে পড়বে আন্দাজ করতে পারেননি সমর্থকরা। জয় একপ্রকার নিশ্চিত ধরে নিয়েই প্রিয় দলের পাশে থাকতে মঙ্গলের সন্ধ্যায় কাতারে-কাতারে যুবভারতী ভরিয়েছিলেন কলকাতার ফুটবল পাগল সমর্থকরা। লক্ষ্মীপুজো পেরিয়ে যাওয়ার দু’দিন বাদেও কলকাতা যেন এদিন গা ভাসিয়েছিল অন্য উৎসবে। হ্যাঁ, ফুটবল উৎসব।

কী ছিল না এদিন স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে? মেক্সিকান ওয়েভ থেকে শুরু করে সুবিশাল সব টিফো। প্রিয় দলের সমর্থনে কলকাতার তিন প্রধানের এমন শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান শেষ কবে দেখেছে ফুটবলের মক্কা, মাথা খুঁটেও মনে আসবে না। কিন্তু পাল্লা দিয়ে ভারতীয় দলের পারফরম্যান্সে যুবভারতীর গ্যালারি কি ন্যায়বিচার পেল? উত্তরটা এককথায় অবশ্যই ‘না’। দলনায়ক ছেত্রীও হতাশ কানায় পূর্ণ যুবভারতীর প্রত্যাশাপূরণে ব্যর্থ হয়ে। ম্যাচটা ১-১ গোলে শেষ করে গোটা রাত্রি তাঁর দু’চোখের পাতা যে এক হয়নি সেটা মোটামুটি নিশ্চিত। আর কলকাতার সমর্থকদের আশানরূপ ফল উপহার দিতে না পেরে অনুতপ্ত দলনায়ক।

বুধের সকালে নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে ব্যক্ত করলেন তাঁর মনের কথা। সেখানে কলকাতার সমর্থক, যুবভারতীর গ্যালারিকে সাবাশি দিয়েও দলের পারফরম্যান্সে অখুশি ছেত্রী। মাইক্রোব্লগিং সাইটে এদিন ভারত অধিনায়ক জানালেন, ‘সল্টলেকের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে আমরা নিজেদের পারফরম্যান্স মেলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছি। গোটা ড্রেসিংরুম হতাশ। সুযোগ আদায় করেও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে দল। তবে মাঠ এবং স্ট্যান্ডে একটা নতুন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তোমরা যেমন টার্ন-আপ করেছো আমরাও আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যাব।’

অন্যদিকে, মাস্ট উইন গেম ড্র করে অখুশি সুনীলদের ক্রোয়েশিয়ান কোচ ইগর স্টিম্যাচও। তিন পয়েন্ট খোয়ানোর কারণ হিসেবে দলের বাজে গোল খাওয়াকেই দায়ী করছেন তিনি। ম্যাচ শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে স্টিম্যাচ বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রাণবন্ত ফুটবল খেলেছে। তুলনায় আমরা অনেক নিষ্প্রভ থেকেছি এবং বাজে গোল হজম করেছি। ভারতীয় দল যে আধুনিক ও টেকনিক্যাল ফুটবল রপ্ত করার চেষ্টা করছে তারজন্য আরও অনেক পরিশ্রম করতে হবে।’

তবে দলের ছেলেদের পাশে দাঁড়িয়ে স্টিম্যাচ জানাচ্ছেন তাদেরও প্রাণোচ্ছ্বল ফুটবল খেলতে হবে এবং যে কোনও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স উপহার দিতে হবে।