সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় , হাওড়া: বিয়ের তারিখ কি সামনেই ? তাহলে অন্তত ফুলের জন্য খরচের বরাদ্দ বাড়িয়ে  রাখুন। এমনটাই জানা যাচ্ছে ফুল বাজার সূত্রে। বাংলা ছবির গানের ভাষাই বলছে ‘বিয়ের ফুল ফুটলেই বাজবেই বিয়ের বাজনা’। এবার যদি ফুলের ‘খাজনা’ দেওয়ার জন্য পকেটে বাজেট কম থাকে তাহলে বিয়েতে বিসমিল্লার সানাইয়ের সুর বেসুরো লাগতে পারে। সৌজন্যে টানা তিন দিন ধরে দক্ষিনবঙ্গের দেদার বৃষ্টি।

যোগান থাকলে ফুল খারাপ, আবার ফুল ভালো থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই বৃষ্টির জন্য বাজারে চাহিদা অনুযায়ী ফুল আসতে না পারার জেরে দাম বেশ খানিকটা বেড়ে গিয়েছে। বর্তমানে অবস্থাটা ঠিক এমনই বলে জানা যাচ্ছে ফুল মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির থেকে। একই কথা জানাচ্ছে ফুল চাষিরাও। চাষিরা জানাচ্ছেন, “বিয়ের মরশুমে ফুলের দিতে সমস্যা হচ্ছে। যে ফুলগুলো ভালো ছিল সেগুলো আর ভালো নেই। অনেক ফুল তো ক্ষেতেই নষ্ট হয়ে গিয়েছে।”

সারা বাংলা ফুল চাষি ও ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক নারায়ণ নায়েক বলেন, ‘মরশুমের মধ্যে এই ভাবে ভারী বৃষ্টি হওয়ায় ফুলের জোগানে ঘাটতির পাশাপাশি দাম বাড়ার সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, “বৃষ্টির জল ঢুকে ফুলের স্থায়িত্ব কমার পাশাপাশি পাপড়িতে দাগ হয়ে গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, রজনীগন্ধার মতো লম্বা ডাঁটির গাছ ঝড়ে ভেঙে ও পড়ে গিয়েছে। আবার গাঁদা, গোলাপ, চন্দ্রমল্লিকার পাপড়ির ভেতর জল ঢুকে যাওয়ায় গুণমানে প্রভাব ফেলেছে।”

হাওড়া মল্লিকঘাট ফুল বাজারের কর্তা স্বপন বর্মণ জানিয়েছেন , “ খরিদ্দার রয়েছে, ফুল কম। সব ফুলেরই দাম যার জন্য অন্তত ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বেশী রয়েছে, যেমন গোলাপের দাম ১২০ টাকা প্রতি ১০০ পিস, অপরাজিতার চেনের ১৫০ টাকা প্রতি কেজি, দোপাটি ১০০ টাকা প্রতি কেজি, কমলা রঙের গাঁদার দাম ২০ টি মালার ১৫০-১৬০ টাকা। হলুদ গাঁদার ২০টি মালার দাম দাম ২৫০ টাকা, রজনীগন্ধার ১০০ পিসের যে স্টিক তাঁর দাম ৩০ থেকে ৪০ টাকা।”

রাজ্যে ফুলের প্রধান অঞ্চল মেদিনীপুর এবং হাওড়া। গত তিন দিনে মেদিনীপুরে প্রবল বৃষ্টি হয়েছে। আজ ৫৩.৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে সেখানে। হাওড়ার উলুবেড়িয়ার চিত্রটাও একইরকম। ফুলেশ্বর ফুলের আরত। সেখানে ৬৬.৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। গত তিন দিনে এইসব অঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ ছিল গড়ে ৫০ মিলিমিটারের উপরে। পাশাপাশি আর্দ্রতার পরিমাণও ৭০ থেকে ৮০ উপরে থাকছে। ফলে ফুলের পাপড়ির ক্ষতি হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন ফুল ব্যবসায়ীরা।

ফুলে ক্ষতির আশঙ্কার কথা স্বীকার করে নিয়েছে জেলা কৃষি উদ্যান পালন দপ্তর। দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, ‘দু’দিনের প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়ে ফুলে প্রচুর ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট তৈরির কাজ চলছে। এখন বৃষ্টি হচ্ছে। সে কারণে রিপোর্ট তৈরির কাজ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে’