সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : বুধবার শিকার উৎসব রুখে পুরস্কৃত হলেন ১৯ জন বনকর্মী। পুরস্কারের তালিকায় উল্লেখযোগ্য মেদিনীপুরের ডেপুটি বনকর্তা পূরবী মাহাতো। ইনি সেই পুরবী মাহাতো যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। অভিযোগের তীর যার দিকে সেই তাঁকেই সারম্বরে পুরস্কৃত করল বন দফতরের ‘ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরো’।

২০১৭-র জুনে ডেপুটি হিসাবে যোগদান করেন পূরবী মাহাতো। এক বছর না পার হতেই দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে তাঁকে কেন্দ্র করে৷ বন দফতরের বিভিন্ন অংশের অভিযোগ ওঠে পূরবী মাহাতো নিজের পছন্দের লোকদের দিয়ে কাজ করিয়ে নিচ্ছেন। নিয়ম অনুযায়ী, বনের মধ্যে রাস্তা তৈরি থেকে শুরু করে বৃক্ষরোপণ বা কাঠ কাটার কাজ শুরুর আগে বিভাগীয় কর্তা তাঁর ডেপুটি রেঞ্জ অফিসারের সঙ্গে কথা বলেন। রেঞ্জ অফিসার সেই কাজের দায়িত্ব দেন বিট অফিসারকে।

স্থানীয় ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজটা সম্পূর্ণ করেন বিট অফিসার। এই কাজগুলি সাধারণত কম টাকার হয়৷ অভিযোগ ছিল, রেঞ্জ এবং বিট অফিসারকে না জানিয়েই পূরবী মাহাতো তাঁর পরিচিত ঠিকাদারদের কাজ দিচ্ছেন৷ তাঁর এই কাণ্ডকে ঘিরেই উঠছিল দুর্নীতির অভিযোগ৷ এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পূরবী মাহাতো বলেছিলেন, “আমি জানি না কেন এই অভিযোগ উঠছে। আমি এখানে সবার সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করি৷ কিন্তু আলাদাভাবে কাউকে সুবিধে দেওয়ার জন্য আমার কোনও উদ্দেশ্য নেই।” তিনি এও জানিয়েছিলেন, “আমার সেই ক্ষমতাই নেই যে আমি এই কাজটা করব। কারণ আমার উপর রয়েছেন ডিএফও৷ তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী আমি কাজ করি। তা ছাড়া আমার মনে হয় আমি ভালো কাজ করছি বলে কারও সমস্যা হচ্ছে৷ তাই এমন অভিযোগ আনছেন।’’

মেদিনীপুরের বিভাগীয় বনকর্তা রবীন্দ্রনাথ সাহাকে এই প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেছিলেন, “এর জন্য ই-টেন্ডার ডাকা হয়। আমার মনে হয় না এমন কিছু ঘটছে। কেউ কাজ পাননি বলে এমন অভিযোগ করতেই পারেন। এটা হতেই পারে।’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘এই অভিযোগ মিথ্যা। অন্তত আমি এমন কোনও ঘটনার কথা জানি না।”

প্রসঙ্গত লালগড়ে বাঘ কাণ্ডের সময়ে শিকার উৎসবে স্থানীয় মানুষদের বাধা দিতে তাঁদের পায়ে জড়িয়ে ধরছিলেন মেদিনীপুর বন বিভাগের সহকারী বিভাগীয় আধিকারিক সেই পূরবী মাহাতোই। দলবেঁধে আদিবাসীদের জঙ্গলে শিকার করতে যাওয়ার খবর পৌঁছেছিল লালগড় বনাঞ্চলের অফিসে। সেই খবর পেয়েই পুলিশ ও বন নিরাপত্তারক্ষীদের নিয়ে আদিবাসীদের বোঝাতে যান পূরবী মাহাতো। প্রথমে তিনি আদিবাসীদের জঙ্গলে গিয়ে বন্যপ্রাণীদের হত্যা না করার জন্য অনুরোধ করেন। তা সত্ত্বেও আদিবাসীরা শিকারের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় এক আদিবাসী দলনেতার পায়ে পড়ে যান পূরবীদেবী । একটাই অনুরোধ ছিল, ‘শিকারে গিয়ে বনের প্রানীদের মারবেন না’।

চলতি বছরে বাঁকুড়া থেকে শিকার উৎসবের খবর মিললেও লালগড় থেকে তেমন কোনও খবর মেলেনি। এই ‘good will-এর কারনেই পুরস্কৃত হয়েছেন পুরবী মাহাতো।