নয়াদিল্লি : জটিলতা কাটল। রাশিয়ার তৈরি স্পুটনিক ভ্যাকসিনের ট্রায়ালে যোগ দিতে চলেছেন ১০০জন ভারতীয় স্বেচ্ছাসেবক। ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া বা ডিজিসিআই এই তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে, রাশিয়ার তৈরি করোনার ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক সমীক্ষায় নারাজ ছিল ভারত। রাশিয়ার ‘স্পুটনিক’ ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন থাকায় ডক্টর রেড্ডিস ল্যাবরেটরিকে ভ্যাকসিনটির সমীক্ষার কাজ বন্ধ রাখতে বলে কেন্দ্রীয় সরকার।

গোটা বিশ্বকে চমকে দিয়ে সর্বপ্রথম করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারের ঘোষণা করেছিল রাশিয়া। করোনা ভাইরাসকে জব্দ করতে ‘স্পুটনিক’ ভ্যাকসিনটি কার্যকরী বলেই দাবি করেছিল রাশিয়া সরকার। যদিও রাশিয়ার তৈরি ওই ভ্যাকসিন নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ছিল একাধিক দেশের। ভারতের ডক্টর রেড্ডিস ল্যাব রাশিয়ার ‘স্পুটনিক’ ভ্যাকসিনটি নিয়ে বৃহত্তর সমীক্ষার পথে হাঁটতে চাইছিল। তবে রেড্ডিস ল্যাবের সেই তৎপরতায় বাধ সাধে কেন্দ্রীয় সরকার।

তবে পরে ডিজিসিআই ডঃ রেড্ডিস ল্যাবরেটরিকে অনুমতি দেয় এই ভ্যাকসিনের ট্রায়াল চালু করার জন্য। তবে এখন এই ট্রায়ালের নির্দিষ্ট দিন ও সময় স্থির করা হয়নি। তবে তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালে যাওয়ার আগে ফের দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল দেওয়া হবে বলে ডঃ রেড্ডিস ল্যাবরেটরি জানিয়েছে।

সেন্ট্রাল ড্রাগ স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশনের তরফে জানানো হয়েছিল, প্রাথমিকস্তরে ‘স্পুটনিক’ ব্যবহার নিরাপদ নয়। রাশিয়ার তৈরি এই ভ্যাকসিনটির সুরক্ষা ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত তথ্য বেশ কম। সেই কারণেই ভারতে এখনই ‘স্পুটনিক’ ভ্যাকসিন নিয়ে বড় পর্যায়ের সমীক্ষা চালানো নিরাপদ নয় বলেই জানিয়েছিল কেন্দ্র। ভারতের মতো সুবিশাল দেশে ‘স্পুটনিক’ নিয়ে সমীক্ষা চলার ব্যাপারে শুরু থেকেই নজর ছিল রাশিয়ার। তবে ভারতের এই সিদ্ধান্তে স্বভাবতই অস্বস্তিতে পড়বে রাশিয়া, তা মনে করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা।

দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ১০০ জনের ওপর ট্রায়াল দেওয়া হবে। তৃতীয় পর্যায়ে ট্রায়ালের জন্য ১৪০০ জনকে বাছাই করা হবে। এদিকে, বৃহস্পতিবারই জানা গিয়েছিল, ভারত বায়োটেকের তৈরি কোভ্যাক্সিন দ্বিতীয় ট্রায়ালে সফল। এবার এই ভ্যাকসিন তৈরি তৃতীয় পর্যায়ের জন্য। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ বা আইসিএমআরের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে করোনা প্রতিষেধক কোভ্যাক্সিন তৈরি করছে ভারত বায়োটেক।

হায়দরাবাদের এই ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক দোসরা অক্টোবর দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল রিপোর্ট জমা দেয় ডিজিসিআইয়ের কাছে। তারপরেই সেটি সফল বলে ঘোষণা করা হয়। অনুমতি মেলে তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের। ভারত বায়োটেক জানিয়েছে দ্বিতীয় ট্রায়ালে ১৯টি জায়গায় পরীক্ষা চলেছে, ১৮ বছর বয়েসী ও তার থেকে বড় বয়সের মানুষের ওপর। ২৮৫০০ জন স্বেচ্ছাসেবক এই ট্রায়ালে অংশ নিয়েছিলেন।

জেলবন্দি তথাকথিত অপরাধীদের আলোর জগতে ফিরিয়ে এনে নজির স্থাপন করেছেন। মুখোমুখি নৃত্যশিল্পী অলোকানন্দা রায়।