কলকাতা: করোনা লকডাউনে মানুষকে ঘরে রাখা যখন কষ্টসাধ্য, ঠিক সেইসময় নিজেকে আলাদা রাখতে অদ্ভুত পথ বেছে নিয়েছেন বাংলার এক চাষি। সময় মতন বাড়ি ফিরতে না পারায় বাড়ি থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে নৌকায় হোম-কোয়ারেন্টিন পালন করেছেন নিরঞ্জন হালদার।

৬৫ বছরের এই ব্যাক্তি মার্চমাসে মালদহে তাঁর ভাইঝির বাড়িতে গিয়েছিলেন। কিছুদিন পরেই সর্দিকাশির উপসর্গ দেখা গেলে ডাক্তার তাঁকে দুই সপ্তাহের হোম-কোয়ারেন্টিনের পরামর্শ দেন।

তবে সমস্যা তৈরি হয় যখন তাঁকে আত্মীয়ের বাড়িতে ফিরতে নিষেধ করে দেওয়া হয় আর তিনি অসুস্থ শরীরে লকডাউনের মাঝে তাঁর নবদ্বীপের বাড়িতে ফিরতে পারেননি।

ফলস্বরুপ ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তে টাংগন নদীতে একটি নৌকায় নিজেকে কোয়েরেন্টিন করেছেন তিনি। নিতাই বিশ্বাস, একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়েছেন, “করোনা ভাইরাসের জন্য আমরা তাঁকে আলাদা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি”।

রাজ্য সরকারের তরফে তাঁকে সাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছে। নিরঞ্জন হালদার জানিয়েছেন, “সরকার আমাকে বলেছে বাড়ি যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে তবে তা শুধু লকডাউন কাটলেই সম্ভব”। করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতিতে গোটা দেশ লকডাউনে রয়েছে।

জানা গিয়েছে, গ্রামে ঘুরে গান গেয়ে অর্থ উপার্জন করেন নিরঞ্জন হালদার। মার্চের শেষ দিকে মালদহের হবিবপুর ব্লকের বুলবুলচণ্ডীতে বোনের মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন তিনি। অন্য এলাকা থেকে আসায় তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার দাবি তোলেন গ্রামবাসী। তা না করলে এ গ্রামে থাকতে দেয়া হবে না নিরঞ্জনকে। উপায় না দেখে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীর দারস্থ হন তিনি। স্বাস্থ্যকর্মীরা তাকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেন। কিন্তু আত্মীয়ের বাড়িতে বাড়তি ঘর না থাকায় নৌকায় থাকতে শুরু করেন নিরঞ্জন।