তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: করোনা আতঙ্কের জের এবার ব্যাপক প্রভাব পড়লো বাঁকুড়ার পর্যটন ক্ষেত্রেও। জেলার অন্যতম পর্যটন ক্ষেত্র বিষ্ণুপুর, মুকুটমনিপুর থেকে শুশুনিয়া সর্বত্রই পর্যটকদের সংখ্যা কমতে কমতে তলানিতে ঠেকেছে। ফলে চরম সমস্যায় হোটেল মালিক থেকে স্থানীয় ব্যবসায়ী সকলেই। প্রত্যেকেই এক বাক্যে স্বীকার করেছেন করোনা আতঙ্কেই এই অবস্থা পর্যটন কেন্দ্র গুলিতে।

‘মন্দির নগরী’ হিসেবেই পরিচিত বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর। টেরাকোটার অপরুপ সৌন্দর্যমণ্ডিত প্রাচীণ মন্দিরের টানেই সারা বছর অসংখ্য দেশী বিদেশী পর্যটক মল্লরাজাদের প্রাচীণ এই রাজধানীতে আসেন। কিন্তু হঠাৎ করেই ‘করোনা’ আতঙ্কে পর্যটকদের আনাগোনা কমতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই হোটেল বুক করেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করছেন।

ফলে হোটেল থেকে হস্ত শিল্প সামগ্রী বিক্রেতাদের রুটি রুজিতে টান পড়েছে। হোটেল মালিক অসিত কুমার চন্দ্র বলেন, ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী পর্যটকদের ভীড় বেশী থাকে। সম্প্রতি পোড়া মাটির হাট চালুর পরে পর্যটকদের সংখ্যা বাড়ছিল। তবে করোনা আতঙ্কের জেরে তা কমতে শুরু করেছে। তার হোটেলেই এই মুহূর্তে ৮০ শতাংশ বুকিং বাতিল হয়েছে বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে, একই ছবি ‘বাঁকুড়ার রাণী’ মুকুটমনিপুরেও। এখানেও পর্যটকের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। আগামী দিনে সেই সংখ্যাটা আরও কমবে বলেই অনেকে মনে করছেন। এখানকার এক বেসরকারি হোটেলের ম্যানেজার পার্থ দের কথায়, সরকারি হোটেল বন্ধ। বাকি গুলিও প্রায় ফাঁকা। তাদের হোটেল খোলা থাকলেও বেশ কিছু বুকিং বাতিল হয়েছে বলে তিনি জানান।

মুকুটমনিপুর নৌচালক কমিটির সম্পাদক তারাপদ সিং সর্দার বলেন, যদিও আমাদের এখানে করোনার কোনও প্রভাব নেই, তবুও আতঙ্কেই পর্যটক এখানে আসছেন না। ফলে তাদের রোজগারে ভাটা পড়ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এসবের মাঝেই মুকুটমনিপুরে দেখা এক পর্যটকের সঙ্গে। বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য নামে ওই পর্যটক বলেন, করোনা আতঙ্কের জেরে ফাঁকা মুকুটমনিপুর। অন্যসময় এলে রাস্তা ঘাটে যে ভিড় লক্ষ্য করা যায়। এখন তার বিন্দুমাত্রও নজরে আসছে না।

স্থানীয় বিধায়ক ও মুকুটমনিপুর ডেভেলপম্যান্ট অথরিটির ভাইস চেয়ারম্যান জ্যোৎস্না মাণ্ডি বলেন, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মানুষ আসছেন না। তবে খুব তাড়াতাড়ি সব ঠিক হয়ে যাবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।