স্টাফ রিপোর্টার, কোলাঘাট: করোনার থাবায় ত্রস্ত বিশ্ববাসী। ইতিমধ্যে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের সংখ্যা ছুঁয়েছে ৬২। এত কিছুর মাঝে সম্প্রতি কাতার থেকে দেশে ফিরেছেন নেভিতে কর্মরত এক যুবক। আর গ্রামের বাড়িতে ফেরার পরই হঠাৎ করে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পড়েন তিনি। বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ থাকায়,  তাকে করোনা সংক্রামক রোগী হিসেবে সন্দেহ করতে শুরু করেন তাঁর প্রতিবেশীরা। এই ঘটনায় যথেষ্ট আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা।  ঘটনাস্থল, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কোলাঘাট পঞ্চায়েতের বাগুর গ্রামে।

যদিও স্থানীয় স্বাস্থ্য দফতর এবং জেলা প্রশাসনের দাবি, অসুস্থ ওই যুবক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নয়। সিজন পরিবর্তনের কারনের তাঁর সামান্য জ্বর হয়েছিল। এখন সে সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে। তাঁকে সবসময় মাক্স পরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, সবসময় তাঁর শরীর-স্বাস্থ্যের ওপর নজর রাখতে বলা হয়েছে যুবকের পরিবারের সদস্যদের। করোনা নিয়ে অযথা ভয়ের কিছু নেই বলেও জানিয়েছেন প্রশাসনিক কর্তারা।

সূত্রের খবর, কোলাঘাট পঞ্চায়েতের বাগুর গ্রামের ওই যুবক কাতারে নেভিতে চাকরি করেন। সম্প্রতি ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে ঘুরতে এসেছেন তিনি। গত কয়েকদিন ধরে হালকা জ্বরে ভুগছিলেন তিনি। মঙ্গলবার তাঁকে ডাক্তার দেখাতেও নিয়ে যাওয়া হয় কোলাঘাট স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। যদিও জ্বর না থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসার পরই ছেঁড়ে দেওয়া হয় ওই যুবককে।

আরও পড়ুন- বৃহস্পতিবারেই শুরু উচ্চ মাধ্যমিক, বন্ধ রাখা হচ্ছে ইন্টারনেট

এদিকে অসুস্থ যুবকের জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার খবর গ্রামে চাউর হতেই, স্থানীয় গ্রামবাসীদের মধ্যে ছড়িয়ে পরে করোনাভাইরাসে সংক্রামিত হওয়ার আতঙ্ক। আর এই সুযোগে গ্রামের বাজার গুলিতে চড়া দামে মাক্স বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। অভিযোগ, গ্রামে করোনার গুজবকে কাজে লাগিয়ে ওষুধের দোকানগুলি বেশি দামে মাক্স বিক্রি করতে শুরু করে দিয়েছেন।

তবে করোনা নিয়ে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, কোলাঘাট পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি রাজকুমার কুন্ডু। তিনি বলেন, এই এলাকায় কোনও ভয়ের কারন নেই। ব্লকের পঞ্চায়েতের মাধ্যম দিয়ে করোনা সম্পর্কে সাবধানতা নিয়ে প্রচার, লিফলেট বিলি চলছে। তবে বাগুর গ্রামের ওই যুবকের উপর নজর রাখছেন তাঁর বাড়ি লোকেরা। যেহেতু শরীরে জ্বর নেই সেই কারনে, অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারন নেই।”

সমস্ত বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ”প্রতিটি পঞ্চায়েত এলাকায় বিশেষ করে ভোগপুর,দেঁড়িয়াচক,সিদ্ধা সহ বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকায় করোনা সতর্কতায় নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। বিদেশে কর্মরত যারা আছেন তাঁরা গ্রামে ফিরলেই তাঁদের নাম যাতে নথিভুক্ত করে পঞ্চায়েত সমিতিতে জানানো হয় সেই ব্যাপারেও বলা হয়েছে। এছাড়াও তাঁদের শারীরিক অবস্থা নজরে রাখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে।”