বেজিং ও পিয়ংইয়ং: বিশ্বজুড়ে ভয়-এই বুঝি চিনের মতো বেহাল পরিস্থিতি তৈরি হয়। হু জারি করেছে জরুরি অবস্থা। মৃত্যুপুরী চিনের অতি ঘনিষ্ঠ উত্তর কোরিয়া যথারীতি নীরব। কিমের দেশের এই আশ্চর্য নীরবতা জন্ম দিয়েছে দুটি প্রশ্নের- ১. আদৌ কি করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে উত্তর কোরিয়ায়? ২. নীরব কিম জং উনের দেশ কি কিছু গোপন করছে? এই দুই প্রশ্ন ঘিরেই আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল সরগরম।

কারণ উত্তর কোরিয়ার একনায়ক কিম জং উন তাঁর যাবতীয় কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রায় পুরোটাই চিনের সঙ্গে বজায় রাখেন। আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তর কোরিয়া সরকারের বার্তা, এখনও পর্যন্ত দেশে কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি। অথচ, চিনের সর্বত্র করোনা ভাইরাসের প্রবল হামলা। ৭০০ জনের বেশি মারা গিয়েছেন শুক্রবার পর্যন্ত। ৩৪ হাজারের বেশি মানুষকে ভাইরাস আক্রান্ত রোগী বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের যুক্তি, এমন মারাত্মক সংক্রামক করোনা ভাইরাসে চিনের অতি ঘনিষ্ঠ উত্তর কোরিয়াতেই ছড়ানোর প্রবল সম্ভাবনা।

কারণ, এই দেশের সব কিছুই চিন থেকে আসে। চিনের সঙ্গে প্রতিবেশি যে ১৪টি দেশ ( রাশিয়া, মঙ্গোলিয়া, তাজিকিস্তান, কিরঘিজস্তান, কাজাকস্থান আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ভারত, নেপাল, ভুটান, মায়ানমার লাওস, ভিয়েতনাম ও উত্তর কোরিয়া) তাদের ১৩টি রাষ্ট্র খুবই উদ্বিগ্ন। ইতিমধ্যেই একাধিক দেশ সবরকম আসা-যাওয়া বন্ধ করেছে। ভিসা প্রদানেও সাময়িক বিরতি। অথচ, চিনের অতি ঘনিষ্ঠ উত্তর কোরিয়ার সম্পর্কে কিছুই জানা যায়নি। বিবিসি, রয়টার্সের সংবাদ, চিন থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে জাপানে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। চিনের পর এটাই কোনও দেশে এখনও পর্যন্ত সর্বাধিক মরণ পরিণতি।

রিপোর্টে বলা রয়েছে, করোনা ভাইরাস পৌঁছে গেছে চিন থেকে সিংগাপুর ও ফিলিপাইন্সে। চিনের স্বশাসিত এলাকা হংকংয়ে মারা গিয়েছেন কয়েকজন। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে চিনের ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। দেশটির ৯০ শতাংশ বাণিজ্যই হয় চিনের সঙ্গে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সেই সূত্রে ভাইরাস সংক্রমণের সর্বাপেক্ষা ঝুঁকিবহুল দেশ উত্তর কোরিয়া। এখানেই রহস্য। উত্তর কোরিয়া তার চরিত্র মতো এক্ষেত্রেও নীরব। মনে করা হচ্ছে, করোনা ভাইরাস উদ্বিগ্নতা এড়াতে সংক্রমণের ঘটনা গোপন রেখেছে উত্তর কোরিয়া সরকার।

এসবের মাঝে একটি মন্তব্য ঘিরে আলোড়িত দুনিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাক্তন গোয়েন্দা প্রধান নাম সুং-উকের দাবি, উত্তর কোরিয়ার জনসংখ্যা কমবেশি ২.৫ কোটি। কেউ না কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন সেখানে। সেখানকার শাসক কিমের কঠোর নির্দেশে সব গোপন করা হচ্ছে।

তাঁর আরও যুক্তি চিন থেকে অসংখ্য লোক ট্রাকে বা ট্রেনে করে দুই দেশের সীমান্ত দিয়ে আসা যাওয়া করেন। এতে করোনাভাইরাস সহজেই উত্তর কোরিয়াতেও ঢুকে যাওয়ার কথা। নীরব কিম জং উন। করোনা ভাইরাস কি আটকে গেছে উত্তর কোরিয়ার সীমান্ত তারকাঁটায় ? কেউ জানে না সেই দেশে কী ঘটেছে।