বেজিং ও জেনেভা: মৃত্যুর হার বাড়ছে বিদ্যুৎ গতিতে। শনিবার পর্যন্ত চিনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৫০০ পার করল। চিন আদতেই মৃত্যুপুরী। আর সীমান্তের এপারে ভারতে কয়েকজন সংক্রামিত রোগীকে চিহ্নিত করা হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।

বিবিসি জানাচ্ছে চিনে মৃতের সংখ্যা ১৫৩৩ জন। করোনা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা ৬৫ হাজার পেরিয়েছে আগেই। অতি দ্রুত ছড়াচ্ছে এই অদৃশ্য হামলাকারী।

জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-হু জানিয়েছে বিশ্ব জুড়ে এই ভাইরাস সংক্রমণের ভয়াল চেহারা এখনও আসেনি। তবে চিন ছাড়া কয়েকটি দেশে এই ভাইরাসের উপস্থিতি সামনে আসছে। হচ্ছে মৃত্যু। তবে সেটা চিনের মতো ভয়াবহ আকারের ধারে পাশে নেই।

চিনের সঙ্গে মোট ১৪টি দেশের স্থল সীমান্ত। তার মধ্যে পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে চিন ছাড়াও ভারতের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে। ভুটানে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি না মিললেও, নেপাল ও ভারতে মিলেছে সংক্রামিত রোগী।

নয়াদিল্লিতে ভারতের স্বাস্থ সচিব প্রীতি সুদান জানিয়েছেন, চিন সীমান্ত সংলগ্ন হিমাচল প্রদেশ, সিকিম, অরুণাচল প্রদেশ, লাদাখের স্থানীয় প্রশাসনকে বিশেষ সতর্কতা নিতে বলা হয়েছে। ভাইরাসটি চিনের মতো ভারতে এখনও হামলা করেনি। এছাড়া সমস্ত রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিবদের সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে বৈঠক করে পর্যাপ্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চিনা স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে খবর, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে মারা গেছেন ১৪৩ জন। ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছেন আরও ২ হাজার ৬৪১ জন। আক্রান্তের সংখ্যা শনিবার পর্যন্ত বেড়ে হয়েছে ৬৬ হাজার ৪৯২ জন।

চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মন্তব্যে উঠে এসেছে করুণ ছবি। তিনি বলেছেন, করোনাভাইরাসে দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর দুর্বলতা ধরা পড়েছে। তা সারাতে হবে। পরিস্থিতি মোকাবিলা ১১৫০ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দ করেছে সরকার।

হু জানাচ্ছে এখনও পর্যন্ত ২৫টি দেশ থেকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের খবর মিলেছে। বিভিন্ন রিপোর্টে উঠে আসছে, অনুন্নত ও দূর্বল অর্থনীতির দেশে এই ভাইরাস ছড়িয়ে গেলে আরও ভয়াবহ ঘটনা ঘটবে। সেই আশঙ্কা বাড়ছেই।