দুবাই: করোনা ভাইরাসের গ্রাস করেছে প্রায় অর্ধেক দুনিয়া। এই মারণব্যাধি কেড়ে নিয়েছে প্রাণ, অসার করেছে জনজীবনকে। তাই International Monetary Fund জানিয়েছে করোনা মহামারি বিশ্ব্বের অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে ব্যহত করবে। তবে এই প্রতীকূলতার মাঝেও একটু হলেও আশার খবর অর্থনৈতিক শ্লথতার পাশাপাশি পরিস্থিতিতে বদল আসবে সেই আশ্বাসও দিয়েছে আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার।

ইন্টারন্যাশনাল মানিটারি ফান্ডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ক্রিস্তালিনা জরজিভা জানিয়েছেন, “আমরা আশা করছি কিছু শতাংশ লোকসান হবে, তারপরেও আশা করছি ০.১-০.২ শতাংশ পাব”। দুবাইতে গ্লোবাল উইমেন ফোরামে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি।

তবে তিনি এও জানান যে, করোনা ভাইরাসের প্রকোপে ঠিক কতটা প্রভাব পড়েছে তা নির্ভর করবে যে পরিস্থিতি কত তাড়াতাড়ি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে।

ক্রিস্তালিনা জরজিভা আরও বলেন, “আমি সকলকে বলতে চাই যে সবদিক না বিচার করে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। এখনও পরিস্থিতি সবটা হাতের মুঠোয় নয়। নজর রাখা হচ্ছে প্রতিমুহূর্তে, দশদিন পরে আমাকে আবার এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করবেন”।

এখনও পুরোপুরিভাবে এই বিষয়ে কথা বলার সময় আসেনি। তবে পর্যটন এবং পরিবহণ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

সন্দিহান ক্রিস্তঈলিনা জানিয়েছে, “এখনও এই ভাইরাসের প্রকৃতি বোঝা যায়নি, চিন কতটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবে এই পরিস্থিতি তা নিয়েও বেশ কিছুটা সন্দেহ থাকছে, চিন থেকে বাকি দেশগুলি কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে তা নিয়েও এখনও সম্পূর্ণ ছবি দেওয়া কিছুটা অসম্ভব।

তবে এও ঠিক যে, যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে তবে অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে। যা মূলত ভি-শেপড ইমপ্যাক্ট নামে পরিচিত।

২০০২ সালে অ্যাাকুট রেসপিরেটরি সিনড্রোম চিনকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল, সেই অবস্থা থেকে বর্তমানে চিন ভালো পরিস্থিতি তে দাঁড়িয়ে আছে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

অনিশ্চয়তার জন্য বৃদ্ধিতে যে শ্লথতা এসেছে তা অবশ্যই চিন্তার, এটা ভেবে দেখার প্রয়োজন আছে, এও উল্লেখ করেছেন তিনি।

চিন থেকে ইতিমধ্যে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। এমন পরিস্থিতিতে একমাসেই চিনের অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে।

স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, একেবারে তলানিতে পৌঁছে গিয়েছে চিনের অর্থনীতি। বলা হচ্ছে, ৩০ বছরের ইতিহাসে সবথেকে তলানিতে দেশের অর্থনীতি। যা চিনের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা। জানা গিয়েছে, গত চার বছরের মধ্যে চিনের সংস্থাগুলিতে হঠাত করেই কমে গিয়েছে লাভের পরিমাণ। ভাইরাসের আতঙ্কে বাইরের বিভিন্ন সংস্থাও চিনে থাকা অফিসগুলির ঝাঁপ বন্ধ করে দিয়েছে। সমস্ত কর্মীদের ফিরিয়ে আনছে সেখান থেকে। কমিউনিস্ট চিনের শেয়ার বাজারেও বড় পতন লক্ষ্য করা গিয়েছে।

অর্থনীতির কারবারিরা বলছেন, গত একমাসে শুধুমাত্র করোনাভাইরাসের জন্যে ৪২০ বিলিয়ন ডলার যা ভারতীয় মূল্যে ৩০ লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। যা চিনের জন্যে যথেষ্ট মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কীভাবে বিশাল এই ক্ষতি মোকাবিলা করা যায় তা রীতিমত চ্যালেঞ্জের কমিউনিস্টদের কাছে।

চিন মৃত্যুপুরী। ডিসেম্বরে চিনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর চিন সহ প্রায় ২৭টির বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস। বিশ্ব জুড়ে সতর্কতা জারি করেছে হু। হু জানিয়েছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এবং প্রাণহানি আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা। এদিকে চিনের স্থল সীমান্ত সংলগ্ন ১৪টি দেশে করোনাভাইরাস সতর্কতা প্রবল।

চিনের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে ভারতের। আবার ভারতেরই প্রতিবেশি পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, মায়ানমারের সঙ্গেও চিনের সীমান্ত। নেপাল, ভারতেকরোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়ায় দুটি দেশেই জারি বিশেষ সতর্কতা। যদিও পাকিস্তান সরকার তাদের নাগরিকদের চিন থেকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে গড়িমসি করায় বিতর্ক প্রবল। আর ভারত সরকার চিন থেকে আসা সব ভারতীয়দের কড়া পরীক্ষা করার কাজ চালাচ্ছে।