সিওল (সাউথ কোরিয়া): নেই কলকবজা, তাই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ির কারখানায় কোপ পরেছে উৎপাদন ক্ষেত্রে। শুক্রবার যথেষ্ট পরিমাণ জিনিসের অভাবে উলসান কমপ্লেক্সে উৎপাদন বন্ধ করল হুণ্ডাই। চিনে করোনা ভাইরাসের থাবায় ক্রমশ অসার হচ্ছে শিল্পক্ষেত্র, সেই প্রভাবেই অভাব তৈরি হয়েছে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির। তাই করোনা ভাইরাসের নতুন শিকার সিওলে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে বেশি উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন হুণ্ডাই গাড়ির কারখানা।

ফাইভ-প্ল্যান্ট নেটওয়ার্ক ক্ষমতাসম্পন্ন এই কোম্পানি প্রতি বছরে ১৪ লাখ গাড়ি তৈরি করে। কোস্টাল অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কলকবজা আমদানির পাশাপাশি বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে গাড়ি বেশ সহজেই রফতানি করা হয়।

আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিতে প্রয়োজনীয় জিনিস সরবরাহ করা কঠিন হয়ে উঠেছে, যেহেতু চিনের বেজিংয়ে করোনা ভাইরাস মহামারির আকার ধারন করেছে। চিনে করোনা ভাইরাস যাতে ছড়িয়ে না যায় তাতে একে একে বন্ধ হয়েছে বিভিন্ন কারখানা।

ফলস্বরূপ, হুন্ডাই এবং কিয়া যারা বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ের তালিকায় তারা পঞ্চম বৃহত্তম অটোমোবাইল প্রস্তুতকারক। জানা গিয়েছে, তারের প্রয়োজনীয় জিনিসের অভাবেই এদিন এই কাজ বন্ধ হয়েছে।

সাউথ কোরিয়া জুড়েই বন্ধ হয়েছে বিভিন্ন কারখানা। পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের ইয়েলো সমুদ্র চিন এবং কোরিয়ান পেনিনসুলা মধ্যবর্তী জায়গায় অবস্থিত। এই গোতা এলাকা জুড়ে প্রায় ২৫ হাজার কর্মীকে জোর করে কাজ থেকে বিরত রাখা হয়েছে।

চিনের শিল্পক্ষেত্রে নভেল করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক প্রভাব ফেলেছে। সাউথ কোরিয়ায় এই লকডাউন বিশ্বের বুকে প্রথম এইরকম উদাহরন তৈরি হচ্ছে বলেই মত প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

হুন্ডাইয়ের এই অবস্থা বেশ করুন। মনে করা হচ্ছে পাচদিনের এই শাটডাউনে কোম্পানির কমপক্ষে ৫০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হতে পারে। শুধু তাই নয়, কর্পরেট ক্যাসুইয়ালটি যে শুধুমাত্র হুন্ডাইয়ের তা নয়, সোমবার হুন্ডাই ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের অংশীদার কোম্পানি কিয়া তাঁদের তিনটি প্ল্যান্ট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি ফরাসি কোম্পানি রেনল্ট আগামী সপ্তাহ থেকেই বুসানে উৎপাদন করতে চায় বলেই কোম্পানি সূত্রে জানা গিয়েছে। চিনে এখনও পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছন কমপক্ষে ৩১ হাজার মানুষ এবং প্রাম্ন হারিয়েছে ৬৩৬ জন।