লখনউ : পেটের জ্বালা করোনা মানে না। মৃত্যুভয়ও বোঝে না। পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দিতে তাই একরকম বাধ্য হয়েই কাজে ফিরছেন উত্তরপ্রদেশের পরিযায়ী শ্রমিকরা। রাজ্যের ৩০ লক্ষ শ্রমিক, যারা লকডাউনের মধ্যে কেউ পায়ে হেঁটে, ট্রেনে-বাসে করে বাড়ি ফিরেছিলেন, তারাই আজ ফিরছেন কর্মক্ষেত্রে।

তাঁদের একটাই দাবি করোনার ভয় নিয়ে ঘরে বসে থাকলে পেট চলবে না। ক্ষিদের জ্বালা থেকে করোনার আতঙ্ক ভালো, দাবি তাঁদের। তাই ফের কাজে ফিরে যাচ্ছেন উত্তরপ্রদেশের শ্রমিকরা।

উত্তরপ্রদেশের বাসস্ট্যান্ড, বিভিন্ন স্টেশনে তাই এখন পরিযায়ী শ্রমিকদের ভিড়। এঁদের মধ্যেই রয়েছেন দিবাকর প্রসাদ ও খুরশিদ আনসারি। যারা গোরক্ষপুর থেকে ফিরছেন নিজের নিজের কাজের জায়গায়। মুম্বইতে একটি কাপড়ের কলে চাকরি করেন আনসারি। জানাচ্ছেন, বাড়ি ফিরেও লাভ হয়নি। কাজ নেই, খাবার নেই। এভাবে থাকা যায় না। খিদে নিয়ে মরার চেয়ে করোনা ভাইরাসে মরা ভালো।

এক পেট খিদে বাড়িতে রেখে ফিরে যাচ্ছে দিবাকর প্রসাদও। করোনার ভয়ের চেয়েও কাজ হারাবার ভয় বেশি তাড়া করছে তাঁকে। কলকাতার একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মী। পাঁচ সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে অথৈ জলে পড়েছেন লকডাউনের জেরে। অপিস খুলতেই তাই কাজে যোগ দিতে ছুটেছেন তিনি।

এরকম লক্ষ লক্ষ প্রসাদ ও আনসারিরা তাই কর্মক্ষেত্রের দিকে ফিরছেন। কারণ কাজ নেই। তারা জানাচ্ছেন, সরকার থেকে রেশন দিচ্ছে। কিন্তু সংসারের অন্য খরচও তো রয়েছে। সেগুলো চলবে কী করে। আর যে পরিমাণ রেশন দেওয়া হচ্ছে, তা যথেষ্ট নয়।

শুক্রবারই মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ কর্মসংস্থানের কথা ঘোষণা করেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন প্রায় এক কোটি মানুষ কাজ পাবেন আত্মনির্ভর উত্তরপ্রদেশ রোজগার যোজনায়। করোনার জেরে কাজ হারিয়েছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। বাড়ছে বেকারত্ব। এই পরিস্থিতিতে কর্মসংস্থানের যোগান দিতে চলেছে উত্তরপ্রদেশ সরকার।

এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগী আদিত্যনাথ জানিয়ে দেন মূলত পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য এই কাজের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। ভিন রাজ্য থেকে যাঁরা কাজ হারিয়ে এসেছেন, তাঁদের প্রথম সুযোগ দেওয়া হবে এই কর্মসংস্থানে।

এই কর্মসংস্থান অভিযান স্থানীয় স্তরে শিল্প তৈরিতে উৎসাহ দেবে। বিভিন্ন মাঝারি শিল্পের সঙ্গে এদের যুক্ত করে রোজগারের পথ খুলে দেওয়াই হবে এই প্রকল্পের লক্ষ্য।

এর মধ্যে ৫০ শতাংশ কর্মসংস্থান হবে মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি স্কিমের আওতাধীন। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী স্থানীয় প্রশাসনকে এই কাজের খসড়া তৈরি করার নির্দেশ দেন। কোন কোন শ্রমিক কি কি কাজে পারদর্শী সেই বিষয়ে তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। জানানো হয়েছে ১.৮০ কোটি মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি স্কিমের কার্ড গ্রাহক। ৮৫ লক্ষ সক্রিয় কর্মী।

প্রশ্ন অনেক: তৃতীয় পর্ব