বেজিংঃ রাত দিন কাটছে চিন্তায়৷ তিনশোর বেশি বাংলাদেশি ও অনেক ভারতীয় একপ্রকার বন্দি হয়ে রয়েছেন চিনের উহান শহরে৷ বেশিরভাগই পড়তে গিয়েছেন সেখানে৷ সেই শহরেই করোনাভাইরাসের প্রবল প্রদুর্ভাব৷ এই ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা হাজারের কোঠা আগেই পারে করেছে৷ মৃত শতাধিক৷ এমনই মৃত্যুপুরী উহান থেকে বাংলাদেশিরা কাতর কণ্ঠে প্রার্থনা করছেন, বাঁচান আমাদের৷

কেউ পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়েছেন৷ কেমন করে একঘরে করে রাখা হয়েছে সবাইকে৷ কারণ যে কোনও সময় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকছেই৷ মৃত্যুও হতে পারে৷ চিনের উহান শহরে চায়না ইউনিভার্সিটি অব জিও সায়েন্সেসে পিএইচডি করছেন বাংলাদেশি ইশরাত জাহান লিজা। তিনি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক৷ তিনি বলেন, সাত দিন ধরে ঘরে বন্দি, বাইরের আলো বাতাস নিতে পারছি না। উহানের রাস্তাঘাট একেবারে জনশূন্য।

ইশরাত জানিয়েছেন, উহানে বসবাস করা তিন শতাধিক বাংলাদেশিদের এখনও কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হননি৷ বাংলাদেশে যেন করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে না পারে এজন্য বিমানবন্দরে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন লিজা।যেসব বাংলাদেশিরা উহানে রয়েছেন তাদের অধিকাংশই দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশে ফিরে আসার আকুতি জানিয়েছেন এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের সাহায্য চেয়েছেন।

তাঁরা জানিয়েছেন, উহান থেকে বাস, ট্রেন ও বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় বেশিরভাগ মানুষ ঘরে থাকছেন। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় খাবারের সংকটেরও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উহান ছাড়াও চিনের হুবেই প্রদেশের ১৮টি শহরে সড়ক, জল ও আকাশপথে সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সংক্রমণ প্রতিরোধে যে সামরিক মেডিকেল কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তারা এর আগে সার্স ও ইবোলা প্রতিরোধের কাজে অভিজ্ঞ। সংক্রমণ প্রতিরোধে ক্রমেই কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে চিন।

এই দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সোমবার মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০৬ জন৷ মোট ৪ হাজার ৫১৫ জন করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে দেশটিতে। এ ছাড়া জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, নেপাল, ফ্রান্স, সৌদি আরব, কানাডাসহ অন্তত ১৩টি দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মিলেছে।