নয়াদিল্লি: ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছুঁয়েছে ৭৪। বিশ্বের ১০৭টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে মারণ এই ভাইরাস। গোটা বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজারের কাছাকাছি। বিশ্বের প্রায় ১.২৫ লাখ মানুষ করোনা সংক্রমণে আক্রান্ত।

বুধবারই করোনাভাইরাসকে ‘বিশ্বব্যাপী মহামারী’ বলে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা(হু)। ভারতে করোনা মোকাবিলায় কেন্দ্র সদর্থক ভূমিকা পালন করছে না বলে অভিযোগে সরব রাহুল গান্ধী। কেন্দ্রকে বিঁধে এদিন সকালেই টুইট করেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি।

এদিন সকালে টুইটে রাহুল লেখেন, ”করোনাভাইরাসের মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকারকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। বারবার সরকারকে গোটা বিশ্বের মারণ এই ভাইরাসের পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে আরও কঠোর কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়ে আসছি। তবুও বিষয়টি নিয়ে সরকারের কোনও অতিসক্রিয় ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়নি।

বর্তমানে গোটা বিশ্ববাসী তথা ভারতের কাছে করোনাভাইরাস একটি মারাত্মক সমস্যার নাম। মারণ এই ভাইরাসের জেরে ধস নেমেছে শেয়ার বাজারে। ধসে পড়ছে দেশের অর্থনীতি। ভারতে মারণ এই ভাইরাসের মোকাবিলায় প্রথম থেকে সরকার অতিসক্রিয় ভূমিকা না নিলে, আগামী দিনে দেশের অর্থনীতিতে দেখা দেবে প্রবল মন্দা। যার প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও।”

এর আগেও একটি টুইটে, রাহুল গান্ধী মোদী সরকারকে একই অভিযোগে সমালোচনা করে বলেন যে, ”কেন্দ্রীয় সরকার দেশে করোনভাইরাসের প্রাদুর্ভাব গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে না।”

এদিকে গোটা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রামিত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ১৫ জন। ফলে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা একলাফে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার দেশে প্রথম করোনায় আক্রান্ত হয়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

কর্নাটকের বাসিন্দা ৭৬ বয়সি ওই বৃদ্ধের নাম কালাবুরাগি। বৃহস্পতিবার তাঁর মৃত্যুর খবর এসেছে। তাঁকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে। ওই ব্যক্তি তেলেঙ্গানার একটি হাসপাতালে গিয়েছিলেন। তাই তেলেঙ্গানা সরকারকেও এব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার তাঁর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকরা সন্দেহ করেছিলেন যে তাঁর শরীরে করোনা ভাইরাস আছে। বৃহস্পতিবার সেই টেস্টের রিপোর্ট এসেছে ও জানা গিয়েছে যে ওই ব্যক্তি করোনাতেই আক্রান্ত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার টুইট করে মোদী জানিয়েছেন, অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিৎ। করোনা তৎপরতায় কেন্দ্রের মন্ত্রীদের এখন বিদেশ সফরে যেতে নিষেধ করেছেন মোদী।

পাশাপাশি বৃহস্পতিবার করোনা সতর্কতায় টুইটারে দেশবাসীকে বার্তাদেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি লিখেছেন, ”করোনাভাইরাস পরিস্থিতির উপর সরকার নজর রাখছে। সকলের সুরক্ষার জন্য রাজ্যগুলিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। প্রয়োজনীয় সাবধানতা মেনে চলুন। কেন্দ্রের কোনও মন্ত্রী বিদেশ সফরে যাবেন না। দেশবাসীর কাছেও আর্জি জানাচ্ছি, যাতে তাঁরা দেশের বাইরে ভ্রমণ এড়িয়ে চলেন।”

প্রসঙ্গত, এর আগেও করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। করমর্দনের বদলে হাত জোড় করে নমস্তে বলার পরামর্শ দিয়েছিলেন মোদী। পাশাপাশি এবারের হোলির অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনও বাতিল করেছিলেন তিনি।