নয়াদিল্লি: চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও অন্যান্য পেশার মানুষ, যারা করোনা ভাইরাসের আতঙ্কের মাঝে দাঁড়িয়ে কাজ করে গিয়েছেন বা কাজ করে যাচ্ছেন, ভ্যাকসিন বাজারে এলে তা পাওয়ার তালিকায় প্রথম সারিতে তাঁরাই থাকবেন।এমনই মত কেন্দ্রের।

এদিন করোনা পরিস্থিতি নিয়ে একটি বৈঠক হয়। যার পৌরহিত্য করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই বৈঠকের পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর। সরকারি সূত্রে খবর এভাবেই বন্টন ব্যবস্থা করা হবে, যাতে করোনা যোদ্ধাদের কাছে আগে ভ্যাকসিন পৌঁছয়। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন এই ভ্যাকসিন যেন সহজলভ্য হয়। সবার কাছে তা পৌঁছয়। কোনও কিছু বিচার না করেই মানুষের হাতে ভ্যাকসিন তুলে দিতে হবে।

এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে ভ্যাকসিন যেন প্রতুল পরিমাণে দেশের হাতে থাকে। এজন্য প্রয়োজনীয় উৎপাদনের ব্যবস্থাও করতে হবে। উল্লেখ্য সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্তের তালিকায় ভারত এখন চার নম্বরে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও রাশিয়ার পরেই জায়গা করে নিয়েছে ভারত।

দেশের মোট আক্রান্তের ৯০ শতাংশ ছড়িয়ে রয়েছে দশটি রাজ্যে। মহারাষ্ট্র, দিল্লি, গুজরাত, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, তেলেঙ্গানা, হরিয়ানা ও কর্ণাটক। এই দশটি রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত দেশে নোভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৫ লক্ষ ৬৬ হাজার ৮৪০। দেশে করোনায় মৃত বেড়ে ১৬ হাজার ৮৯৩।

তবে একদিকে যেমন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে তেমনি সুস্থও হচ্ছেন অনেকে। এখনও পর্যন্ত ৩ লক্ষ ৩৪ হাজার ৮২২ জন করোনামুক্ত হয়েছেন। এই মুহূর্তে দেশে করোনা অ্যাক্টিভ কেস ২ লক্ষ ১৫ হাজার ১২৫।

একটানা লকডাউনেও করোনায় লাগাম পরানো যায়নি। প্রতিদিন লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। দেশের মধ্যে করোনার সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ছড়িয়েছে মহারাষ্ট্রে। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মহারাষ্ট্রে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১ লক্ষ ৬৯ হাজার ৮৮৩। মহারাষ্ট্রে করোনায় মৃত বেড়ে ৭ হাজার ৬১০।

সংক্রমণের নিরিখে মহারাষ্ট্রের পরেই রয়েছে রাজধানী তামিলনাড়ু। দক্ষিণের এই রাজ্যে নোভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৮৬ হাজার ২২৪। এদিকে, মঙ্গলবার বিকেলে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। আর সেখানে তিনি জানান প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত চালানো হবে।

এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে এখনই করোনা বিদায়ের কোনও সম্ভাবনা নেই। তাই করোনা ভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধে জিতে তাকে নিয়েই বেঁচে থাকাটা নিউ নর্মাল জীবন। আগামী মাসগুলোতেও এভাবেই থাকতে হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে হু। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেল টেডরোস অ্যাডানম ঘেব্রিইয়েসাস জানান সব দেশই এখন কঠিন প্রশ্নের মুখে। ভাইরাসের সঙ্গে বাঁচাটাই এখন নিউ নর্মাল জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV