নিউ ইয়র্ক: করোনাভাইরাস যে খুব তাড়াতাড়ি আমাদের জীবন থেকে যাবে না সে ব্যাপারে সতর্ক করেছেন একাধিক বিশেষজ্ঞ। এবার ফের সেরকমই সতর্কবার্তা এল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফ থেকে।

বুধবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেডরোস আধানোম ঘেবরেসাস বলেন, এখনও বিশ্বের অনেক দেশ মহামারীর প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। যেসব দেশ ভাবতে শুরু করছে যে সেখানে সংক্রমণ আয়ত্তের মধ্যে চলে এসেছে সেখানে নতুন করে ফিরে আসছে সংক্রমণ। বিশেষত আফ্রিকা ও আমেরিকায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রাষ্ট্রসংঘের হেলথ এজেন্সি ৩০ জানুয়ারি গোটা বিশ্বে ইমার্জেন্সির বার্তা দিয়েছিল। আর সেটা একেবারে সঠিক সময় ছিল বলে মনে করেন তিনি। তিনি আরও একবার সতর্ক করে বলেন, “কোনও ভুল করবেনা। আমাদের এখনও অনেক পথ চলার বাকি। আর এই ভাইরাস আমাদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে থাকবে।”

কিছুদিন আগেই তিনি স্প্যানিশ ফ্লু এর প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেছেন করোনা ভাইরাস এর চেয়েও সাংঘাতিক। তিনি জেনিভার সংবাদমাধ্যমকে বলছেন, করোনা ভাইরাস খুবই সাংঘাতিক। ১৯১৮-র ফ্লুতে ১০ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

তিনি আরও বলেছেন, এখন আমাদের প্রযুক্তি উন্নত। আমরা এই বিপর্যয়কে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারি। আমাদের সেই ক্ষমতা এখন আছে। বিশ্বাস করুন। কিন্তু এখনও পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

তিনি সাবধান করে বলছেন, আমাদের আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা বাকি আছে। তাই এটা আমাদের আটকাতে হবে। এখনও অনেকে বুঝতে পারছেন না কতটা সাংঘাতিক এই ভাইরাস।

ভারতেও আতঙ্ক বাড়ছে ক্রমশ।

এই মুহূর্তে ভারতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২০,৪৭১। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে গিয়েছে ৩,৯৫৯ জন। মৃত্যু হয়েছে ৬৫২ জনের।

আপাতত ৩ মে পর্যন্ত জারি আছে লকডাউন। তারপর কী হবে, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ২৭ এপ্রিলের পর। ২৭ এপ্রিল মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

যদিও গত সোমবার কেন্দ্র জানিয়েছে, আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ার হার ক্রমশ কমছে। জানানো হয়েছে, লকডাউনের আগে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হচ্ছিল ৩.৪ দিনে। আর এখনই সেটা হচ্ছে ৭.৫ দিনে। গত সাত দিনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৭.৫ শতাংশ কমেছে দ্বিগুণ হওয়ার হার।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে লকডাউন না বাড়ালে আক্রান্তের সংখ্যা ২ লক্ষ ছাড়িয়ে যাবে। অন্যদিকে আমেরিকায় মৃত ৪৪ হাজার ছাড়িয়েছে।

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।