পুণে: এক বছরের মধ্যে আবিষ্কার হবে করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন। কিন্তু সেই ভ্যাকসিন ভাইরাসকে দূর করতে ১০০ শতাংশ কার্যকরী হবে না। সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার প্রধান আধিকারিক আদার পুনাওয়ালা এমনই জানাচ্ছেন। সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (এসআইআই)ভ্যাকসিন তৈরি করার জন্য পরিচিত।

পুনাওয়ালা বলছেন, আমাদের পরিষ্কার ভাবে জেনে রাখতে হবে এই ভ্যাকসিনই ১০০ শতাংশ সমাধান নয় বা সারিয়ে তুলতে পারে না। এই ভ্যাকসিন যাঁরা নেবেন তাঁদের মধ্যে হয়তো ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সুস্থ হবেন। বাকিরা ভ্যাকসিন নেওয়ার পরেও অসুস্থ হতে পারেন।

তিনি আরও বলছেন, এই করোনা স্বাস্থ্যের জন্য যত না ভয়ানক, তার চেয়েও বেশি ভয়ানক যে আর্থিক ক্ষতি হতে চলেছে। ভারতে এই লকডাউন খুব বড় প্রভাব আনতে চলেছে বলে তিনি জানান। তাই সাবধানতা ও সঠিক নিরাপত্তা অবলন্বন করে কী ভাবে আবার স্বাভাবিক জীবনের কাজ শুরু করা যায় ভারত সরকারকে তা দেখতে বলেছেন তিনি।

ইকোনমিক টাইমসের কাছে সাক্ষাৎকারে পুনাওয়ালা বলছেন, এসআইআই এই মুহূর্তে দুটো ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করছে। কোভিড ১৯-এর জন্য মার্কিন সংস্থা কোডাজেনিক্সের সঙ্গে জোট বেঁধে কাজ হচ্ছে। কিন্তু এই ভ্যাকসিন ২০২১-এ পাওয়া যাবে।

পুণের এই সংস্থা এর পরে এটি পরীক্ষামূলক ভাবে প্রয়োগ করে দেখবে। আগামী মাসে ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (ডিসিজিআই)-তে এই ভ্যাকসিন পাঠানো হবে। পুনাওয়ালা জানাচ্ছেন, এই ভ্যাকসিন পশুদের উপর প্রয়োগ করে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও প্যারিসের এক সংস্থার সঙ্গে জোট বেঁধেও করোনার ভ্যাকসিন তৈরির কাজ করছে এসআইআই। পশুদের উপর আগে এর পরীক্ষা চালানো হবে।

পুনাওয়ালা বলছেন, ভয় পাওয়ার কিছু হয়নি। মানুষ খুব আতঙ্কে রয়েছে। এটা ততটাও ভয়ঙ্কর নয়। এইচ১এন১ বা ইবোলার সময়ে এই আতঙ্ক ছিল না। ৩-৪ শতাংশ আক্রান্ত হচ্ছে। তার মধ্যে ১ শতাংশের মৃত্যু হচ্ছে। করোনার থেকে বেশি গাড়ি দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যায়।

কিন্তু তারই সঙ্গে বেশ ভয়ের কথাও বলেছেন তিনি। তিনি বলছেন, ভারতে এখনও অনেকে আক্রান্ত। আস্তে আস্তে সেই সংখ্যাটা বেরিয়ে পড়বে। তারা আগে থেকেই আক্রান্ত ছিল। কিন্তু যেহেতু পরীক্ষা করার সুযোগ ছিল না তাই বিষয়গুলি সামনে আসেনি।