প্রতীকী ছবি

বেজিং: করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক চিন ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে গোটা বিশ্ব জুড়ে। এই ভাইরাস যাতে না ছড়ায়, তার জন্য যর রকমের সাবধানতা অবলম্বন করা সম্ভব, তা সবই করা হচ্ছে। আর সেই সাবধানতার অজুহাতেই মারা হচ্ছে একের পর এক পোষ্য প্রাণীকে।

চিনের বিভিন্ন প্রদেশে কুকুর-বিড়াল মারার হিড়িক পড়ে গিয়েছে। এক গবেষক দাবি করেছিলেন, বাড়ির পোষা প্রাণীরাই নাকি করোনা ভাইরাস ছড়াতে সক্ষম। তারপরই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাই বাড়ির দরজায় দরজায় গিয়ে পোষ্যদের বের করে আনা হচ্ছে ও তাদের মেরে ফেলা হচ্ছে। চিনের সোশ্যাল মিডিয়া ‘ওয়েবো’তে সেসব নৃশংস ভিডিও শেয়ার হয়েছে।

করোনা ভাইরাস প্রাণী থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ে, এ ধারণার পরই এমন ঘটনা ঘটছে। ভাইরাসের বিস্তার রোধ করতে অনেক মানুষ নিজের পোষা প্রাণীদের মেরে ফেলেছেন। চিনে সড়কের বিভিন্ন স্থানে মৃত কুকুর-বিড়াল চোখে পড়েছে।

চিনের হুবেই প্রদেশের তিয়ানজিন শহরে কুকুরের রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বহুতল ভবনের একটি ফ্ল্যাটের ওপর থেকে নিচে ফেলে তাকে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাংহাইতে পাঁচটি পোষা বিড়ালের মরদেহ পাওয়া গিয়েছে।

টেলিভিশনের এক অনুষ্ঠানে চিনা রোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর লি লানজুয়ান বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে ছিল এমন আশঙ্কা থাকলে পোষা প্রাণীদের পৃথক স্থানে (কোয়ারেন্টাইন) রাখতে হবে।

তার এই বক্তব্য ভুলভাবে পরিবর্তন করে স্থানীয় এক সংবাদমাধ্যম বলে, ‘কুকুর-বিড়ালের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে করোনা ভাইরাস।’ এ তথ্য ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কিত হয়ে অনেকেই পোষা প্রাণীদের মেরে ফেলতে শুরু করেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে আরও অনেক নিরীহ প্রাণী মেরে ফেলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ‘হু’ জানিয়েছে যে, এই ধারনা ভুল। এরকম কোনও প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।

গত ৩১ জানুয়ারি করোনা ভাইরাসকে জরুরি স্বাস্থ্য সমস্যা বলে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিওএইচও)।