কলকাতাঃ স্বাস্থ্যমন্ত্রকের ভূমিকায় চরম ক্ষুব্ধ রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। জানা গিয়েছে, দিল্লিতে কোয়ারান্টাইনে ছিল তেহট্টের পরিবার। কোয়ারান্টাইনে ভেঙে একেবারে গোপনে দিল্লি থেকে ট্রেনে নদিয়াতে চলে আসে বাঙালি এই পরিবার। এই ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে কোন তথ্য জানানো হয়নি রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরকে। কেন্দ্রের ভূমিকায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।

শুক্রবার রাতেই রাজ্যে নতুন করে আরও পাঁচ করোনা আক্রান্তের হদিস মেলে। তেহট্টর একই পরিবারের ৫ জন করোনা আক্রান্ত হন। প্রথমে পরিবারটি দিল্লিতে ছিল। দিল্লিতে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল আক্রান্তদের। কিন্তু কোয়ারেন্টাইন ভেঙে ট্রেনে দিল্লি থেকে নদিয়াতে ফেরে পরিবারটি। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের অভিযোগ, দিল্লিতে থাকাকালীন পরিবারটির সম্পর্কে রাজ্যকে কোন রকম তথ্য দেয়নি স্বাস্থ্যমমন্ত্রক। আগে থেকে পরিবারটি সম্পর্কে জানা থাকলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে পারত রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।

সে ক্ষেত্রে নতুন করে রাজ্যে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকত না বলেই মনে করছেন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা। জানা গিয়েছে, নদিয়ার তেহট্টের এই পরিবার সম্প্রতি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দেয়। তাদের সংস্পর্শে আসা মোট ২১জনকে ইতিমধ্যে নদিয়া থেকে কলকাতায় আনা হয়েছে। এরই পাশাপাশি দিল্লি থেকে ট্রেনে নদিয়া ফেরার সময় ওই পরিবারটির সহযাত্রীদের সম্পর্কে খোঁজ-খবর শুরু করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বাংলায় করোনায় আক্রান্ত আরও পাঁচ। পাঁচজনই একই পরিবারের বলে জানা যাচ্ছে। এক ধাক্কায় রাজ্যে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১৫। যা যথেষ্ট চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে রাজ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের। শুক্রবার ওই পাঁচজনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তাঁদের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছে এক নয় মাসের এবং এক ছয় বছরের শিশুও। রয়েছে এক ১১ বছরের কিশোরও। এছাড়া ২৭ বছরের এক তরুণী এবং ৪৫ বছরের এক মহিলা আক্রান্ত হয়েছে।

জানা যাচ্ছে, এই পরিবার নদিয়ার তেহট্টের বাসিন্দা। গত কয়েকদিন আগে তেহট্টে ফেরে তাঁরা। সেখান থেকে ফেরার পরেই হোম আইসোলেশনে রাখা হয়। কিন্তু সেটা মানা হয়েছে কিনা তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে তেহট্টের জেলাশাসককে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এই পরিবার সেখানে কার কার সঙ্গে সঙ্গে মিশেছে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।