বারাকপুর: উদ্বেগ বাড়িয়ে রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২৭। উত্তর ২৪ পরগনার বেলঘরিয়ার রথতলার বাসিন্দা এক প্রৌঢ়ের শরীরে মিলেছে করোনা ভাইরাসের জীবাণু। গত ২৬ শে মার্চ কিডনি জনিত সমস্যা ও জ্বর , শ্বাস কষ্ট জনিত কারনে ৫৭ বছরের ওই প্রৌড়কে বেলঘরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তবে তাঁর অবস্থার অবনতি হতে শুরু করলে ডাক্তাররা কোন রকম ঝুঁকি নিতে চাননি। বরং ৩০ মার্চ তাঁর রক্ত ও লালা রসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। এরপর মঙ্গলবার রিপোর্ট এলে তাতে সংক্রমণের উপস্থিতির কথা জানা যায়।। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই একটা আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

রথতলা মোড়ে এই ব্যক্তি ও তার স্ত্রী দুজনে মিলে একটি হোটেল চালান। বেশ কিছু দিন ধরেই ওই ব্যক্তি কিডনি জনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রায় দুই মাস ধরে নিয়মিত তার ডায়ালিসিস চলছিল বেলঘরিয়ার ওই বেসরকারি হাসপাতালে। ফলে ওই প্রৌঢ়ের কোন ট্রাভেল হিস্ট্রি না থাকা সত্ত্বেও তার করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা যতেষ্ট চিন্তার কারন হয়ে উঠেছে স্বাস্থ্য দফতের কাছে। শুধু তাই নয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। যদিও জানা যাচ্ছে, গত কয়েকদিন আগে ওই ব্যক্তির শ্যালক মুম্বই থেকে ফেরে। সেখান থেকে কোনও সংক্রমণ হয়েছে কিনা সেটাই এখন দেখার।

অন্যদিকে পারিবারিক এবং স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী গত দু’মাসে ওই প্রৌঢ়ের ডায়ালিসিস চলার কারনে বেলঘড়িয়ার বাইরে তিনি কোথাও যান নি। তবে ওই প্রৌঢ়ের করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা সামনে আসতেই ওই হাসপাতালে ওই প্রৌঢ়ের চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত দুই চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের ওই হাসপাতালের মধ্যেই কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে এই ঘটনা জানাজানি হতেই লক ডাউন যেন আরও বেশি করে পালনীয় হয়ে উঠতে দেখা গেল বেলঘরিয়া রথতলা এলাকায়।

সেখানের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ওই হোটেল মালিকের করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা একটা চাপা আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। তবে ইতিমধ্যেই ওই ব্যক্তির পরিবারের সকলকেই কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

বেলঘরিয়া রথতলা এলাকায় ওই হোটেল মালিকের করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা সম্পর্কে কামারহাটি পৌর সভার পুরপারিষদ বিমল সাহা জানান “গত ২৬ মার্চ কিডনির সমস্যা নিয়ে ওই বৃদ্ধ কমারহাটির বেসরকারি হাসপাতালের ভর্তি হয়েছিলেন। তার ডায়ালিসিস চলছিল। তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় তার শারীরিক পরীক্ষা হয় এবং করোনা ভাইরাস পজেটিভ রিপোর্ট আসে। আমরা সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি স্বাস্থ্য দফতরকে জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতর ব্যবস্থা নিচ্ছে। রথতলা এলাকায় ওনাদের একটি খাবারের দোকান আছে। আক্রান্ত ও তার স্ত্রী ওই দোকানটি চালাতেন। তাদের পরিবারে দুটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তি ও তার পরিবারের অন্য সদস্যদের সম্পূর্ণ আইসলেশনে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”