মালদা : “আগেরবার যে ভাবে করোনা ঝড় সামলেছি এবারও সেই ভাবেই করোনা ঝড় সামলে নেবো”, বলে আশ্বাস দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মালদা থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই কথা বলেন। তিনি এদিন জানান, “রাজ্যে এই মুহূর্তে ৬হাজার ৭৯৩জন করোনা রোগী সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছে ।এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ভি=ৰতি আছে ৩ হাজার ৮৮৮জন প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি আছে ২ হাজার ৯০৫ জন। মোট হোম আইসোলেশনে আছেন ৫১ হাজার ৫৯৩ জন।” মুখ্যমন্ত্রী এদিন ভ্যাকসিনের দাম বাড়ার প্রসঙ্গে বলেন, “মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার সময় এখন। এটা ব্যবসা করার সময় নয়। আমি প্রধানমন্ত্রীকে ভ্যাকসিনের দাম যাতে না বাড়ে সেটা জানিয়ে চিঠি লিখবো।” করোনা ভ্যাকসিনের জন্য রাজ্য সরকার ১০০ কোটি টাকার একটা ফান্ড তৈরী করছে, বলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন জানান।

মুখ্যমন্ত্রী বুধবার সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, “রাজ্যে অক্সিজেনের ঘাটতি আছে। যাতে অক্সিজেনের দাম না বাড়ায় সেটা দেখতে বলেছি অফিসারদের। করোনার ভ্যাকসিন -এর জন্য ১০০ কোটি টাকার ফান্ড করা হচ্ছে। আমরা ৯৩ লক্ষ মানুষকে ভ্যাকসিন দিয়েছি। এখন আমাদের ১০ কোটি মানুষ রাজ্যে আছেন। আমরা খুব তাড়াতাড়ি আরও ১ কোটি ভ্যাকসিন কেন্দ্রের কাছে চেয়েছি। এটা দেওয়া শেষ হলে আবার আমরা বাদবাকিটা বাজার থেকে কিনে নেবো। ৪০০টি কেন্দ্র থেকে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। ২ মে পর্যন্ত নির্বাচন, তাই কাজ করতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। আমরা সেফ হোম করেছি। পিজি হাসপাতালের ১৭জন চিকিৎসকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অনলাইনে করোনা চিকিৎসার জন্য। আমাদের আগের বারও অনেক মানুষ, অনেক কোম্পানি আর্থিক সাহায্য করেছে। এবারও আমরা সাহায্য চাইছি। মানবিকতার হাত বাড়াতে হবে সবাইকে ।”

করা হাসপাতালে ভর্তি হবেন, কোন রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হবেন? সেই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যাদের সিরিয়াস অবস্থা নয় তাদের হাসপাতালে রেখে আটকে না দিয়ে তাদের বাড়িতে আইসোলেশনে বা সেফ হোমে রাখতে বলছি। সেফ হোম করা হয়েছে। হাসপাতালের বেড বাড়ছে।”

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন, “আমি কমিশনকে বলছি করোনা রোগী যারা বাড়িতে বা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাঁরা।, এমন মানুষরা যাতে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারেন সেটা দেখতে হবে। আমি মনে করি করোনা একটা ঝড়। সারা দেশে করোনা বেড়েছে। করোনা একজনের হলে অন্যজনের হতে পারে। তাই সাবধানে থাকতে হবে।”

এদিন মুখ্যমন্ত্রী ভ্যাকসিনের দাম প্রসঙ্গে বলেন, “ভ্যাকসিন উৎপাদক সংস্থা ও কেন্দ্রকে বলছি, এটা ভ্যাকসিনের দাম বাড়ানোর সময় নয়। এটা ব্যবসার সময় নয়, পরিষেবা দেওয়ার সময়। অনেক চিকিৎসক, চিকিৎসাকর্মীরা ভ্যাকসিন নিয়েছেন। দুটো ভ্যাকসিন নেওয়ার পরেও করোও করোও করোনা হচ্ছে। তবে ভ্যাকসিন নেওয়ার পর যাদের হচ্ছে তাদের সংক্রমণের তীব্রতা অনেকটাই কম। তবে করোনা ঝড় থেমে যাবে। আমি ভ্যাকসিনের দাম নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখবো। এটা মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার সময়, ব্যবসা করার সময় নয় বলে আমি মনে করি।”

এদিনও মুখ্যমন্ত্রী লকডাউন প্রসঙ্গে বলেন, “লকডাউন করে সব বন্ধ করে দিলে নোটবন্দীর মতো মানুষ গৃহবন্দী হয়ে যাবে। নির্বাচন কমিশনের লোক, প্রচার করতে ভিন রাজ্য থেকে আমাদের রাজ্যে এসে নেতারা বসে আছেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর লোকেরা আছেন, ভিন রাজ্যের পুলিশ আছে। এরা সবাই নির্বাচনের জন্য এসেছেন। এতগুলো বাইরের মানুষ আছেন, তাই লকডাউন করে কী হবে? তার থেকে সতর্কতা বজায় রেখে চললে সমস্যা কমবে।” এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নির্বাচনে যে মাস্ক দেওয়া হচ্ছে সেটা রাজ্য সরকার দিয়েছে।”

এদিনও মুখ্যমন্ত্রী ৮ দফায় নির্বাচন করার কমিশনের সিদ্ধান্তকে ফের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “করোনার জন্য একটা গাইডলাইন হয়েছে। সেটা কখন মানা হচ্ছে কখন হচ্ছে না সেটাই বোঝা যাচ্ছে না। ৮ দফায় নির্বাচন ঘোষণার সময় থেকেই আমি বলে আসছি ৮ দফায় নির্বাচন করার কী প্রয়োজন ছিল?”

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.