স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: দেশজুড়ে করোনা সংক্রমণ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে৷ এই পরিস্থিতির জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে দুষে তাঁর পদত্যাগ দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

রাজ্যে করোনা পরিস্থিতির জন্য ফের বিজেপি-কে দায়ী করলেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। অতীতেও বিজেপিকে আক্রমণ করেছেন তিনি। রবিবার ফের বলেন, ‘‘রাজ্যে প্রচুর বহিরাগত ঢুকিয়েছে বিজেপি। বহিরাগত গুন্ডারা বাংলায় বসে আছে। প্রায় ১০ হাজার বাইরের লোক এসে বসে আছে, আর তারাই করোনা নিয়ে এসেছে। আমাদের রাজ্যে যতটুকু করোনা হয়েছে, তা ওই বহিরাগতদের জন্যই হয়েছে।’’ এরপরই প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন মমতা৷

রবিবার একগুচ্ছ প্রচার কর্মসূচি ছিল মমতার। নদিয়ার তেহট্ট থেকে বর্ধমানের গলসি বেশ কয়েকটি জনসভার পাশাপাশি কলকাতায় ঢাকুরিয়া থেকে কালীঘাট পর্যন্ত হুইল চেয়ারে পদযাত্রা করেন মমতা।  বালিগঞ্জ, রাসবিহারী ও ভবানীপুর আসনের প্রচার সারেন। এদিকে, এদিনই করোনা মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে ফের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট লিখেছেন, ‘কলকাতার মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত হারে এবং নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী টিকাকরণ চালানোটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ভ্যাকসিনের সরবরাহ অপর্যাপ্ত এবং অনিয়মিত৷ যার ফলে আমাদের রাজ্যের টিকাকরণ কর্মসূচিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে৷ আমাদের আরও ২.৭ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন দিতে হবে, তার জন্য ৫.৪ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন প্রয়োজন৷ রাজ্য যাতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভ্যাকসিন পায়, তার জন্য অবিলম্বে আপনাকে হস্তক্ষেপ করতে অনুরোধ করছি৷ , এছাড়াওপ্রয়োজনীয় ওষুধ রেমডিসিভির ও টসিলিজুমাব অপ্রতুল৷ অক্সিজেন সরবরাহের নিশ্চয়তা প্রয়োজন৷’

রাজ্যে করোনায় নতুন সংক্রমণ পৌঁছে গেল প্রায় সাড়ে ৮ হাজারের কাছে। স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিনে দেখা গিয়েছে, শেষ ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৪১৯ জন। এর ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ৬ লক্ষ ৫৯ হাজার ৯২৭-এ। শেষ ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ১৯৭ জন। এই একই সময়ে কলকাতায় আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ১৯৭ জন, উত্তর ২৪ পরগনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৮৬০।

শেষ ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ২৮ জনের। শনিবারের তুলনায় সংখ্যাটি সামান্য কম। এই একই সময়ের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ৫৩ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষা করা হয়েছে ৪৬ হাজার ৭৪টি নমুনা, যার মধ্যে ৮ হাজারের বেশি সংক্রমিত। সেই কারণেই সংক্রমণের হার পৌঁছে গিয়েছে ১৮.২৭-এ।

জেলার ভিত্তিক সংক্রমণের হিসাবে সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছে কলকাতা। কলকাতায় নতুন সংক্রমণ পৌঁছে গিয়েছে ২ হাজার ১৯৭-এ। তারপরেই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা, সেখানে নতুন সংক্রমণ ১ হাজার ৮৬০। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ৫০১।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.