তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: প্রায় একশো বছর পর আরও একটা মহামারির মুখোমুখি মানব সমাজ। এবারও মা রক্ষা কালী এই দূর্দিনে ত্রাতা হিসেবে সামনে উপস্থিত হবেন এই বিশ্বাস থেকেই মারণ ভাইরাস ‘করোনা’র হাত থেকে বিশ্ববাসীকে রক্ষার প্রার্থনা জানালেন বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের মাধবগঞ্জ এলাকার মানুষ। হাজার বছরেরও বেশী প্রাচীণ এই মন্দিরে বিশেষ পুজো পাঠের মাধ্যমে দেবীর কাছে করোনার করাল গ্রাস থেকে বিশ্ববাসীকে রক্ষার প্রার্থনা জানালেন তারা। এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, এক হাজারেরও বেশী পুরোনো এই পুজো।

আধুনিক নগর সভ্যতা গড়ে ওঠার আগে বিষ্ণুপুর এলাকা পুরো জঙ্গলে ভর্তি ছিল। সেই সময় বর্তমান মাধবগঞ্জে ডাকাত দলের হাতে প্রতিষ্ঠিত হন দেবী। পরবর্তী সময়ে ওই জায়গায় বেল গাছের নিচে এক তান্ত্রিক তন্ত্রসাধনা শুরু করেন। ঠিক সেই সময়ে কোনও এক চৈত্র মাসে বসন্ত মহামারী হিসেবে দেখা দিলে সম্মিলীত এলাকাবাসী ওই মহামারীর হাত থেকে রক্ষা পেতে মা কালীর স্মরণাপন্ন হন। ফলও মেলে হাতে নাতে। মহামারী থেকে রক্ষা পান মানুষ। আর সেই থেকেই ডাকাত কালীর নাম পরিবর্তিত হয়ে ‘রক্ষা কালী’ নামে পরিচিতা হন তিনি। আরও পরে ওই বেল গাছের নিচে এলাকাবাসীর সৌজন্যে সুদৃশ্য মন্দির।

একই সঙ্গে সেই সময় থেকেই ফি বছর চৈত্র মাসেই বিশেষ পুজাপাঠের সূচণা হয়। এখনও সেই নিয়ম চলে আসছে। বর্তমান সময়ে মানুষের সামনে ‘করোনা’ নামক আরও এক মহামারী বা অতিমারীর উপস্থিত। এই ঘটনায় সারাবিশ্ব তটস্থ। এই অবস্থা থেকে বিশ্ববাসীকে ফের রক্ষা করবেন মা। এই বিশ্বাস নিয়েই মাধবগঞ্জের রক্ষাকালী মন্দিরে ভিড় জমালেন মানুষ। তবে সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই যতোটা সম্ভব অনাড়ম্বরভাবে ভক্তিভরে পুজা পাঠ, হোম যজ্ঞের পাশাপাশি করোনার করাল গ্রাস থেকে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের প্রতিটি মানুষকে রক্ষা করার প্রার্থণা জানালেন সকলে।

সকলের বিশ্বাস এবারও তারা নিরাশ হবেন না। পুজা কমিটির সদস্য নিমাই সরকার থেকে স্থানীয় বাসিন্দা বুলু সেন প্রত্যেকেই বলেন, এখানে কোন প্রতিমা নেই। মা কালী, মা চণ্ডি ও মা দুর্গার তিনটি ঘট স্থাপন ও মায়ের ৩২ টি পাঁজরের ছবি এঁকে পুজা করা হয়।

হাজার বছর আগে মহামারী থেকে সেই সময়ের মানুষকে মা যেমন রক্ষা করেছিলেন, বর্তমান সময়ে করোনার হাত থেকে তিনিই আপামর বিশ্ববাসীকে রক্ষা করবেন বলে তাদের বিশ্বাস। এমনটাই জানিয়েছেন তারা। পুরোহিত শান্তনু বন্দোপাধ্যায় বলেন, কালী, চণ্ডি ও দুর্গাকে চণ্ডিপাঠের মাধ্যমে আরাধনা করা হয়। ঈশ্বরবাদীদের বিশ্বাস একসময় মহামারী থেকে মা যেমন প্রত্যেককে রক্ষা করেছিলেন, তেমনি এবারও করোনার হাত থেকে বিশ্ববাসীকে মা-ই রক্ষা করবেন বলে তিনি আশাবাদী বলে জানান।