নয়াদিল্লি: করোনা ভাইরাসের আক্রমণে কাঁপছে গোটা দেশ। দেশজুড়ে ক্রমেই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে রবিবার রাজ্যগুলির সঙ্গে বৈঠক করে কেন্দ্র। কেন্দ্রের সুপারিশেই রবিবার একাধিক রাজ্যে লকডাউন ঘোষণা হয়।

পশ্চিমবঙ্গেও সোমবার বিকেল পাঁচটা থেকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। ২৭ মার্চ রাত ১২ টা পর্যন্ত রাজ্যের সব সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকছে। বন্ধ থাকছে সরকারি ও বেসরকারি গণপরিবহন। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। তবে চালু থাকছে জরুরী পরিষেবা।

দেশের মধ্যে মহারাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে। জরুরী কালীন ভিত্তিতে পরিস্থিতি মোকাবিলার সবরকম চেষ্টা করছে মহারাষ্ট্র সরকার। সোমবার সকাল পর্যন্ত মহারাষ্ট্রে ৮২ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছ।

গত ২৪ ঘন্টায় মহারাষ্ট্রে আরও ১৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মারাঠা ভূমিতে ১৪৪ ধারা জারি রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে। গত ২৪ ঘন্টায় মহারাষ্ট্রে যে ১৫ জন নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ১৪ জন মুম্বইয়ের বাসিন্দা, একজন পুনের বাসিন্দা। জরুরী পরিষেবা ছাড়া আপাতত ৩১ শে মার্চ পর্যন্ত মহারাষ্ট্রে সরকারি ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকছে। বন্ধ থাকছে রেল পরিষেবা। করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার ফের জরুরি বৈঠকে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে।

সংক্রমণ এড়াতে লকডাউন ঘোষণা হয়েছে রাজধানী দিল্লিতেও। রাজধানীতে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ওলা উবের সহ সব ধরনের ক্যাব পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে. দিল্লির সীমানা গুলি সিল করে দেওয়া হয়েছে।

ওয়াকিবহাল মহলের ব্যাখ্যা, চিনে দ্রুত করোনা সংক্রমণ রোখা গিয়েছে মূলত লকডাউন ঘোষণা করেই। সেই কারণেই ভারতেও এবার ওই একই ব্যবস্থা নিয়েছে মোদী সরকার। সোমবার সকাল পর্যন্ত মহারাষ্ট্রে ৮২ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। কেরলে এদিন সকাল পর্যন্ত ৬৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। রাজস্থানে আক্রান্তের সংখ্যা ২৫। উত্তরপ্রদেশে এখনো পর্যন্ত ২৯ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মিলেছে। লাদাখে ১৩ জনের শরীরে মিলেছে মারণ ভাইরাসের জীবাণু। জম্মু-কাশ্মীরের চারজন আক্রান্ত হয়েছেন।

দেশজুড়ে সোমবার সকাল পর্যন্ত ৪১৮ জন করনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। করোনা থেকে সুস্থ হয়ে মুম্বাইয়ে ফিরে ফিলিপিন্সের এক পর্যটক এর মৃত্যুর খবর মিলেছে।