কলকাতা: অজান্তে করোনা আক্রান্ত এক ব্যক্তির চিকিৎসা করার মাসুল দিতে হচ্ছে এনআরএস হাসপাতালকে৷ সাধারণ রোগী ভেবে চিকিৎসা৷ পরে তার করোনা উপসর্গ দেখা দেয়৷ মৃত্যুর পর জানা যায় ওই রোগী করোনা আক্রান্ত৷ এরপরই তড়িঘড়ি এনআরএস হাসপাতালের অন্তত ৬৫ জন ডাক্তার-নার্সকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠায় রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর৷ এদিন সেই সংখ্যাটা দাঁড়াল ৭৯জনে৷ এদের মধ্যে রয়েছে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী৷ আতঙ্কে রয়েছেন আরও অনেকে৷ কোয়ারেন্টাইনে থাকা ৭৯ জনের মধ্যে ২০ জনের প্রথম দফার নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসার কথা মঙ্গলবার।

এদিকে এনআরএস হাসপাতালের পুরুষদের মেডিসিন বিভাগ এবং সিসিউতে রোগী ভর্তি বন্ধ রাখা হয়েছে৷ ইতিমধ্যেই ১৪০ বেডের পুরুষ মেডিসিন বিভাগ জীবাণুমুক্তর কাজ শুরু হয়েছে৷ এছাড়া নতুন করে ২জন রোগীর শরীরে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ মিলেছে। রিপোর্ট পজিটিভ এলে তাঁদের স্থানান্তরিত করা হবে বেলেঘাটা আইডিতে। প্রসঙ্গত, শনিবার এনআরএস হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যু হয়৷ বছর ৩৪ এর ওই ব্যক্তি হিমোফিলিয়া রোগী ছিল৷

মহেশতলার ওই বাসিন্দা প্রথমে মেল মেডিসিন বিভাগে ও পরে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন৷ চিকিৎসা চলাকালীন তার শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দেয়৷ এরপরই করোনা পরীক্ষার জন্য এসএসকেএমে তার নমুনা পাঠানো হয়৷ এরমধ্যেই ওই রোগীর মৃত্যু হয়৷ মৃত্য্যুর পর তার রিপোর্ট আসে, তখন জানা যায়, মহেশতলার বাসিন্দা করোনা আক্রান্ত৷ এরপরই তৎপর হয়ে উঠে স্বাস্থ্য দফতর৷ ওই রোগীর সংস্পর্শে আসা ৬৫ জন চিকিৎসক ও নার্সকে তড়িঘড়ি কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়৷ এরপরে আরও ১৪ জনকে পাঠানো হল কোয়ারেন্টাইনে৷ ফলে সংখ্যাটা দাঁড়াল ৭৯৷

পাশাপাশি হাসপাতালের মেল মেডিসিন ইন্ডোর বিভাগ ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে নতুন রোগী ভর্তি আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে৷ অন্যদিকে কলকাতা পুরসভার মুখ্য স্বাস্থ্য উপদেষ্টা তথা চিকিৎসক কে যেতে হল হোম কোয়ারেন্টাইনে৷ স্বাস্থ্য দফতর নির্দেশে তিনি বাড়িতেই গৃহ পর্যবেক্ষণে রয়েছেন৷ সূত্রের খবর, সম্প্রতি এক করোনা আক্রান্তের মেডিক্যাল রিপোর্ট দেখেন পুরসভার ওই আধিকারিক তথা চিকিৎসক৷ এর পরই জানা যায় তিনি যে ব্যক্তির রিপোর্ট দেখেছেন ,পরে তার করোনা পজিটিভ আসে৷ করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংস্পর্শে আসায় স্বাস্থ্য দফতর ওই আধিকারিককে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন৷

কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য দফতরের মুখ্য উপদেষ্টা হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন কর্মরত। গত ৪ এপ্রিল কলকাতার বৌবাজারের এক বাসিন্দা শারীরিক সমস্যা নিয়ে পুরসভার স্বাস্থ্য দফতরের মুখ্য উপদেষ্টা তথা চিকিৎসকের চেম্বারে এসেছিলেন৷ ওই ব্যক্তি চেস্ট রিপোর্ট নিয়ে তার কাছে এসেছিলেন৷

যদিও কলকাতা পুরসভার মুখ্য স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ওই চিকিৎসক নির্দিষ্ট দূরত্ব রেখেই ওই রোগীর রিপোর্ট দেখেছিলেন৷ পরে জানা যায়, ওই রোগীর লালারসের নমুনা পরীক্ষায় করোনা ভাইরাস পজিটিভ ধরা পড়েছে। এবং তার পরিবারের সবাইকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে৷ তার পরই স্বাস্থ্য দফতর তৎপর হয়ে ওই উপদেষ্টাকে গৃহ পর্যবেক্ষণে পাঠিয়েছে৷