প্রতীকী ছবি

শিলিগুড়ি:  আরও এক নার্সের শরীরে মিলল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেনজ এবং হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন নার্স। জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন আগেই জ্বর এবং শ্বাসকষ্ট নিয়ে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ওই স্বাস্থ্যকর্মী। জানা গিয়েছে, রবিবার তাঁর লালারসের পরীক্ষা করা হয়। তাঁর লালার নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এরপরেও সোমবার মাটিগাড়ার হিমাঞ্চল বিহারের বেসরকারি হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভরতি করা হয়েছে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, করোনায় আক্রান্ত ওই নার্স কালিম্পংয়ের মৃত মহিলার চিকিৎসায় যুক্ত ছিলেন। সেখান থেকেই তাঁর শরীরে মারণ এই ভারাসের সংক্রমণ ঘটেছে বলে জানা যাচ্ছে। জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে ওই নার্সকে আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি মুহূর্তে রাখা হচ্ছে নজরও।উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের তরফে জানানো হয়েছে, যে চিকিৎসক, নার্স এবং চিকিৎসাকর্মীরা মৃত রেলকর্মীর সংস্পর্শে এসেছিলেন, তাঁদের হোম কোয়ারান্টিনে পাঠানো হয়েছে।

উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের তরফে জানা গিয়েছে, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত নিউ জলপাইগুড়ি রেল হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছিলেন। আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর সংস্পর্শে আসা সমস্ত কর্মী এবং ডাক্তার সহ স্বাস্থ্যকর্মীদের দ্রুত চিহ্নিত করা হয়। তাঁদের চিহ্নিত করে পাঠানো হয়েছে হোম কোয়ারেন্টাইনে।

প্রসঙ্গত, রাজ্যে সোমবার বেলা ১২টা পর্যন্ত রাজ্যে ৬১ জন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছেন। করোনায় এখনও পর্যন্ত রাজ্যে মৃত ৩। সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে করোনা নিয়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা দিনরাত এক করে কাজ করছেন। ‘চিন্তার কারণ নেই’, রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কালিম্পঙে একটি পরিবারের ১১ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন। তার মধ্যে ১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। এরা চেন্নাই থেকে এসেছিলেন।

রাজ্যে কমান্ড হাসপাতালের এক চিকিৎসক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁর পরিবারেরও ৫ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

নদিয়ার তেহট্টের পরিবারের সঙ্গে ব্রিটেনের যোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তেহট্টে ৫ জন আক্রান্ত। এগরাতেও আক্রান্ত ব্যক্তি বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। সংক্রমণ ছড়িয়ে মোট ১২ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করে মুখ্যমমন্ত্রীর আরও ঘোষণা, ‘চিন্তার কারণ নেই। রোগ নিরাময়ের পথ খুঁজছে রাজ্য। করোনা আক্রান্ত ১৩ জন সুস্থ হয়ে ফিরেছেন। কালিম্পঙে আক্রান্ত ১০ জনের মধ্যে ৪ জনের আজ নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছে। এটা ভালো খবর।’