নয়াদিল্লি:  ভারতের মাটিতে ভয়ঙ্কর চেহারা নিয়েছে করোনা ভাইরাস। ইতিমধ্যে কয়েক লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে আক্রান্তের সংখ্যা। প্রত্যেকদিন কয়েক হাজার করে আক্রান্ত হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিশ্বে ভয়ানক ভাবে করোনা আক্রান্ত দেশগুলির মধ্যে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে।

এরই মধ্যে দেশবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে চিনের একদল গবেষক জানায়, চলতি মাস অর্থাৎ জুনের মাঝামাঝি সময়ে ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রত্যেকদিন ১৫ হাজার করতে পারে। তাঁরা গবেষণা করে দেখেছেন। এই পূর্বাভাস দেশবাসীর মনে আরও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। যদিও এই আতঙ্কের মধ্যেও স্বস্তির খবর জানাচ্ছে এইমসের ডিরেক্টর, রণদীপ গুলেরিয়া।

তিনি জানিয়েছেন, করোনা প্রতিষেধক নিয়ে আর বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না মানুষকে। খুব বেশি হলে দু থেকে তিনমাস। এর মধ্যেই মারণ ভাইরাসকে জব্দ করার প্রতিষেধক বের হতে পারে বলে জানিয়েছেন এইমসের ডিরেক্টরল। এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চিকিৎসক রণদীপ গুলেরিয়া জানিয়েছেন, করোনা যেভাবে বাড়ছে সেই গতি ধীরে ধীরে কমিয়ে আনাটাই বড় চ্যালেঞ্জ আমাদের কাছে। আক্রান্তের সংখ্যা এমন হওয়া উচিত নয় যে, রোগীদের চিকিৎসা করা বা হাসপাতালে ভর্তি করাটা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

তবে অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতে মৃত্যুর হার অনেক কম বলে জানিয়েছেন রণদীপ। যা যথেষ্ট ইতিবাচক দিক হিসাবেই দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। তবে অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতে জনসংখ্যার হার অনেকটাই বেশি। আর সেই কারণে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়বে বলেই ওই সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন তিনি।

তবে রণদীপ গুলেরিয়া মনে করেন, খুব শীঘ্রই করোনার প্রতিষেধক সামনে আসবে। আর তা আগামী দু-তিনমাসের মধ্যেই বের হবে মনে করেন তিনি। তবে কিছুটা সন্দেহও প্রকাশ করেছেন তিনি। রণদীপ গুলেরিয়া জানিয়েছেন, এই বছর যদি কোনও ভাবে ভ্যাকসিন না আসে তাহলে আগামী বছরের গোড়ায় তা বেরতে পারে বলে করছেন তিনি। তবে প্রতিষেধকের থেকেও মানুষের সচেতনতা মারণ এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে সবথেকে বড় লড়াই বলে মনে করেন রণদীপ গুলেরিয়া।

সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, এই রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সকলকে নিজের দায়িত্ব পালন করতে হবে। লকডাউন ধীরে ধীরে তুলে নেওয়া হবে ঠিকই। তবে মাস্ক ব্যবহার বা শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করা সাধারণ মানুষেরই দায়িত্ব বলে জানিয়েছেন রণদীপ। তাঁর মতে, করোনার জীবাণু ১০ থেকে ১৫ মিনিটের বেশি হাওয়ায় থাকতে পারে না। ফলে অবশ্যই সাবধান থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প