প্রতীতি ঘোষ, বারাকপুর: করোনা ভাইরাসের ওষুধ দেওয়ার নামে প্রতারণা এক হোমিপ্যাথি ডাক্তারের। ওই প্রতারক ডাক্তারের নাম দীপক কুমার বিশ্বাস। সে তার হোমিওপ্যাথি চেম্বারের বাইরে বাংলায় লিখে বিজ্ঞাপন দিয়েছিল তার কাছে করোনা ভাইরাসের ওষুধ পাওয়া যায়। ওই ডাক্তারের চেম্বারের ঠিকানা পলতার বি আর আম্বেদকর রোড। সেখানেই করোনা ভাইরাসের ওষুধ দেওয়ার নামে প্রতারণার ব্যবসার ফাঁদ পেতে বসেছিল ওই হোমিওপ্যাথি ডাক্তার। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই হুলস্থুল বেঁধে যায়।

জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ওই ডাক্তারবাবু তার চেম্বারের বাইরে বিজ্ঞাপনে লিখেছিলেন, পুরো পরিবারের করোনা ভাইরাসের ওষুধ তার কাছে পাওয়া যাবে মাত্র ৫০ টাকায় । গত সোমবার থেকে বিজ্ঞাপন দিয়ে এই ব্যবসার ফাঁদ পেতে বসেছিল দীপক কুমার বিশ্বাস। স্থানীয় বাসিন্দারা ওই ডাক্তারের চেম্বারের বাইরে বাংলায় লেখা ওই বিজ্ঞাপন দেখে অবাক হয়ে যায়। স্থানীয় যুবক তন্ময় বিশ্বাস ওই বিজ্ঞাপন দেখে সোশ্যাল মিডিয়াতে কলকাতা পুলিশের ফেসবুক পেজে যোগাযোগ করেন।

কলকাতা পুলিশ থেকে ওই যুবককে বলা হয় স্থানীয় নোয়াপাড়া থানার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। এরপর মঙ্গলবার বিকেলে পলতার বি আর আম্বেদকর রোডে ওই হোমিপ্যাথিক ডাক্তারের চেম্বারে হানা দেয় নোয়াপাড়া থানার পুলিশের একটি দল। তারা যখন ওই ডাক্তারবাবুর সঙ্গে কথা বলতে যান, ততক্ষনে বেপাত্তা হয়ে যায় ওই প্রতারক ডাক্তার। পুলিশ এরপর পৌঁছয় ওই প্রতারক ডাক্তারবাবুর বাড়িতে। তার স্ত্রী পুলিশকে বলে, তার স্বামী বাড়িতে নেই । সেই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, “দুদিন ধরে ওই বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে ঠিকই, তবে করোনা ভাইরাসের ওষুধ আবিষ্কার হয়নি, দেওয়া হচ্ছে অ্যান্টি ভাইরাস ।” একথা শুনে কার্যত অবাক হয়ে যায় পুলিশ কর্মীরা।

একজন হোমিপ্যাথিক ডাক্তার কি করে করোনা ভাইরাসের ওষুধ দিতে পারেন? যদিও এই প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেননি ওই প্রতারক ডাক্তারের স্ত্রী। ওই প্রতারক দীপক কুমার বিশ্বাসকে দ্রুত নোয়াপাড়া থানায় দেখা করতে বলা হয়েছে। গোটা ঘটনায় হতবাক পলতার বি আর আম্বেদকর রোডের বাসিন্দারা। নোয়াপাড়া থানার পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ওই হোমিপ্যাথিক ডাক্তারের ডিগ্রিগুলি সঠিক কি না তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পলাতক প্রতারক দীপক কুমার বিশ্বাসের খোঁজ শুরু করেছে নোয়াপাড়া থানার পুলিশ ।