রানিগঞ্জ (প.বর্ধমান): ” আমরা আছি যে কোন প্রয়োজনে” সঙ্গে দেওয়া মোবাইল নম্বর। দেয়াল জুড়ে পোস্টারে করোনা সচেতনতা। আর বিনামূল্যে মাস্ক ও স্যানিটাইজার বিলি। সবমিলিয়ে পশ্চিম বর্ধমানের খনি অঞ্চলে করোনা রোখার কর্মসূচিতে সাড়া ফেলেছে বাম যুব-ছাত্র সংগঠন। কয়লাখনির এলাকা জুড়ে চলছে এই কর্মসূচি। বামপন্থীদের এই স্যানিটাইজার বিলিতে বিপুল সাড়া পড়েছে।

অভিযোগ, বিজেপির দখলে থাকা আসানসোল লোকসভা কেন্দ্র ও তৃণমূলের দখলে থাকা আরও কয়েকটি বিধানসভাতে সংশ্লিষ্ট দলগুলির এমন উদ্যোগ নেই। রানিগঞ্জ বিধানসভাটি বর্তমানে সিপিআইএমের দখলে। তাই এই এলাকায় বাম কর্মীরা লকডাউনের আগে থেকেই শুরু করেন মাস্ক ও স্যানিটাইজার তৈরির কাজ। নিজেদের বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে সেকথা জানিয়েছিল বামপন্থী সংগঠনগুলি।

বিধায়ক রুণু দত্ত জানিয়েছেন, এই বিপর্যয়ের মাঝে কোনওরকম রাজনীতির লড়াই নেই। আমি দলের নির্দেশে বিধায়ক তহবিল থেকে ১০ লক্ষ টাকা রাজ্য সরকারের করোনা মোকাবিলা ফান্ডে দিয়েছি। স্থানীয় এসডিও এবং বিডিওর সঙ্গে করোনা মোকাবিলা কর্মসূচির রূপায়ণ করা হয়েছে। দরকার পড়লে তৃণমূল পরিচালিত আসানসোল পুর নিগমের সঙ্গেও কথা বলে কর্মসূচি চালানো হবে।

ডিওয়াইএফআই পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতি সাগর বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, শুধু বাম দখলে থাকা রানিগঞ্জ নয় জেলার সর্বত্র বাম কর্মীরা বিনামূল্যে মাস্ক, খাবার সরবরাহ করছেন। সরকারি নির্দেশ মেনে বাড়িতে থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।

হাতে কলমে মাস্ক বানানোর পদ্ধতি শেখানো হচ্ছে় ২০১১ সালে পরিবর্তনের সময় রানিগঞ্জ আসন হাতছাড়া হয় বামেদের। পরের নির্বাচনে ফের আসনটি দখল করে বামেরা। কিন্তু গত দুটি লোকসভা নির্বাচনে আসানসোল কেন্দ্রটি বিজেপির দখলে। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের দখলে জেলার বেশিরভাগ বিধানসভা। পশ্চিম বর্ধমানের রানিগঞ্জ জেলায় বামেদের একটি মরুদ্য়ান বলেই চিহ্নিত। গত লোকসভা নির্বাচনে একটি আসনও আসেনি বাম ঝুলিতে। টানা ৩৪ বছর শাসনের পর সেটাই এখনও পর্যন্ত সব থেকে বাজে পরিস্থিতি। ৭ শতাংশ ভোট পাওয়া বামেদের করোনা প্রতিরোধ কর্মসূচি সে অর্থে আলোচিত হচ্ছে রাজ্য় জুড়ে।