স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বিজেপির পর এবার করোনার মোকাবিলায় এগিয়ে এল বামেরা। করোনার চিকিত্সায় জেলার হাসপাতালগুলিতে ১০ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেবেন বাম বিধায়করা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেওয়া চিঠিতে বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী লিখেছেন, বাম বিধায়করা এলাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে জেলার সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে করোনার চিকিত্সা পরিকাঠামো ও উপকরণের জন্য ন্যূনতম ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করবেন। এবিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শও জানতে চাওয়া হয়েছে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমানে বাম শিবিরে থাকা ২৬ জন বিধায়ক মোট ২ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকদের তহবিলে দেবেন। জেলাশাসকদের কাছে এই মর্মে প্রস্তাব দু’-একদিনের মধ্যেই বিধায়করা পাঠিয়ে দেবেন বলে সুজন চক্রবর্তী জানিয়েছেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে করোনা সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ও সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে এই টাকা ব্যয় করার আর্জি জানিয়েছেন।

করোনার মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই আর্থিক অনুদান দিয়েছেন বিজেপি সাংসদরা। ১.৬ কোটি টাকা দিয়েছেন সুরিন্দর সিং অহলুওয়ালিয়া। হুগলির সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় সাংসদ তহবিল থেকে দিয়েছেন ১ কোটি। বাঁকুড়ার সাংসদ সুভাষ সরকার ১ কোটি টাকা দিয়েছেন।

বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার ৩০ লক্ষ টাকা ও সৌমিত্র খাঁ ৮০ লক্ষ টাকা। ৫০ লক্ষ টাকা দিয়েছেন পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় মাহাতো। ৫০ লক্ষ টাকা করে দিয়েছেন নিশীথ প্রামাণিক, রাজু বিস্ত, জন বার্লা। সকলেই নিজের এলাকার উন্নয়ন তহবিল থেকে করোনার চিকিত্সায় অনুদান দিয়েছেন।

করোনা আতঙ্কে কাঁপছে দেশ। বুধবার সকাল পর্যন্ত দেশজুড়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হলো ৫৬২। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মারণ করোনার বলি এখনও পর্যন্ত ১১। বুধবার সকালেও তামিলনাড়ুর মাদুরাই এর হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর মিলেছে। মধ্যপ্রদেশের নতুন করে পাঁচ করোনা আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মিলেছে ইন্দোরে। পাঁচজনের শরীরে মিলেছে মারণ ভাইরাস।

তাদের প্রত্যেকটি আইসোলেশন রেখে চিকিৎসা করা হচ্ছে মধ্যপ্রদেশে। বুধবার সকাল পর্যন্ত করোবা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৪। মহারাষ্ট্রে ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে মারণ করোনা। কেরলেও পরিস্থিতি খারাপ। যদিও বাংলায় কিছুটা হলেও স্বস্তি। কারণ নতুন করে আর কারোর শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া যায়নি।